• ‘আমার স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে’, দাবি ধৃতের স্ত্রীর, বারুইপুর খুনে CBI তদন্তের দাবি
    এই সময় | ২৬ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়, বারুইপুর: বিজেপিকর্মী বাপি প্রামাণিককে খুনে ইতিমধ্যে চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে বারুইপুর থানা। তবে রাজ্য পুলিশের তদন্তে আস্থা রাখতে পারছে না নিহতের পরিবার। কেন্দ্রীয় এজেন্সি সিবিআইকে দিয়ে তদন্তের দাবি তু‍লেছে তারা। রাজ্য পুলিশ তদন্ত চালালে 'সেটিং' হতে পারে বলে আশঙ্কা পরিবারের। তাদের অভিযোগ, বিজেপি করতে গিয়ে ১৮ বছর বাড়ি ছাড়া ছিলেন বাপি। অথচ তিনি নিহত হওয়ার পরে বিজেপির কোনও নেতাই পরিবারের পাশে এসে দাঁড়াননি!

    গত রবিবার রাতে বারুইপুর থানার হাড়দহ গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর ট্যাঙারবেড়িয়া গ্রামে বাড়ির কাছেই খুন হন বাপি (৪৫)। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সোমবার রাতে চার জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতরা হলেন সুজন মণ্ডল, কৃষ্ণ মণ্ডল, কনক মণ্ডল এবং অনিল নাইয়া। সুজন আবার বিজেপিরই পঞ্চায়েত সদস্য এবং বারুইপুর পূর্বে দলের ৫ নম্বর মণ্ডলের প্রাক্তন সভাপতি। যদিও দলের একাংশের দাবি, আগেই তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বাকি তিন জন তৃণমূল সমর্থক বলে পরিচিত। মঙ্গলবার ধৃতদের বারুইপুর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক পুলিশ হেফাজতে পাঠান। ঘটনার পরে বাপির বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    পরিবারের দাবি, রবিবার রাতে স্থানীয় বিজেপিকর্মী বাদল মণ্ডল ফোন করে বাপিকে জানান, তাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন। তা জেনে বাড়ি থেকে বেরোন বাপি। এর কিছুক্ষণ বাদে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। বাদলকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে বারুইপুর থানার পুলিশ। খুনের নেপথ্যে কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা তাঁর ফোনের সূত্র ধরে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ধৃত সুজনের স্ত্রী সুপর্ণার দাবি, 'স্বামীকে ফাঁসানো হয়েছে। উনি নৈশপ্রহরী হিসাবে ডিউটিতে ছিলেন।'

    অন্য দিকে, বাপির দুই মেয়ে মন্দিরা সর্দার ও সোনালি প্রামাণিকের অভিযোগ, পুলিশ যে ভাবে তদন্ত করছে, তাতে 'সেটিং' হয়ে যেতে পারে। প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দিতে চাই সিবিআই তদন্ত। পরিবারের দাবি, বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকে এলাকা ছাড়া তৃণমূলের দুই প্রভাবশালী নেতা ফের ট্যাঙারবেড়িয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। বাপিকে ১০ লক্ষ টাকা দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। বাপি টাকা নিতে অস্বীকার করলে সুজনের মাধ্যমে সেই টাকা বিজেপির তিন জনের মধ্যে ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা হয়। সেই বন্দোবস্তেই খুন।

    মেয়েদের কথায়, 'বিজেপি করার কারণেই বাবা খুন হয়েছেন। অথচ বিজেপির জেলা বা রাজ্য স্তরের কোনও নেতা, বিধায়ক বা সাংসদ পরিবারের খোঁজ নেননি। আমাদের ভাইয়ের একটা চাকরি হলে সংসারটা বাঁচবে।' রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তাঁদের আবেদন, পরিবারের বিষয়টি যে‍ন সহানুভূতির সঙ্গে দেখা হয়।

    পরিবারের সিবিআই তদন্তের দাবি বা দল সম্পর্কে অনুযোগ নিয়ে বিজেপি রাজ্য কমিটির সদস্য উত্তম কর বলেন, 'বাপি প্রামাণিক আমাদের দলের একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। তৃণমূলের লোকজন পরিকল্পনামাফিক তাঁকে খুন করেছে। রাজ্য পুলিশে আমাদের ভরসা রয়েছে। সবার ভরসা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর উপরে। তবে পরিবার কী দাবি করছে, সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনও খবর আসেনি।'

  • Link to this news (এই সময়)