চিনির দাম কি সত্যিই বেড়েছে, না আড়ালে চলছে অন্য খেলা? দোকানে-বাজারে হানা টাস্ক ফোর্সের
আজ তক | ২৬ আগস্ট ২০২৬
চিনির প্যাকেটটা হাতে তুলতেই থমকে গেলেন ক্রেতা। পেঁয়াজের দিকে তাকিয়ে কপালে ভাঁজ। সবজির ঝুড়িতে হাত দিতেই হিসেবের খাতা খুলে যাচ্ছে মাথার ভিতর। কী কিনবেন, আর কী ছেড়ে দেবেন, এই ভাবনাতেই এখন বাজারের ব্যাগ ভারী হওয়ার আগেই পকেট হালকা হয়ে যাচ্ছে। সংসারের রান্নাঘরে প্রতিদিনের এই টানাপোড়েনের মাঝেই উঠছে আরও একটা প্রশ্ন, দামটা সত্যিই কি এতটাই? নাকি কোথাও আড়ালে চলছে অন্য কোনও খেলা? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এবার বাজারে ঢুকল পুলিশ। দোকানের কাউন্টারে শুধু দাম নয়, দেখা হল মাল কোথা থেকে আসছে, কত দামে আসছে, কত দামে বিক্রি হচ্ছে। গুদামের দরজা খুলিয়ে দেখা হল মজুতের হিসেবও। আজ তক বাংলার চোখে ধরা পড়ল এমনই এক অভিযান, যেখানে বাজারের দামের পাশাপাশি নজরে এল সেই হিসেব, যার গরমিলের আঁচ গিয়ে পড়ছে সরাসরি মধ্যবিত্তের পকেটে।
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা চন্দননগরের একাধিক বাজারের পাশাপাশি চুঁচুড়ার রবীন্দ্রনগর বাজার, শেওড়াফুলি বাজার এবং হুগলির ব্যান্ডেল বাজারে অভিযান চালান। মুদিখানার দোকানে ঢুকে প্রথমেই জানতে চাওয়া হয় চিনির দাম। কত দামে কেনা হচ্ছে, কত দামে পাইকারি বিক্রি হচ্ছে, আর সাধারণ ক্রেতার হাতে পৌঁছতে পৌঁছতে সেই দাম কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে। দোকানদারের সামনে খাতা খুলে বসেন আধিকারিকরা। শুধু চিনি নয়, দোকানে থাকা অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ও মজুত নিয়েও নেওয়া হয় তথ্য। কোথায় কত বস্তা চিনি রয়েছে, সেই মজুতের পরিমাণ স্বাভাবিক কি না, তাও খতিয়ে দেখা হয়।
এরপর পুলিশের দল ঢুকে পড়ে সবজি বাজারে। আড়তদারদের গোডাউনের দরজা খুলে দেখা হয় ভিতরের ছবি। বস্তার পর বস্তা আলু, পেঁয়াজ কতটা রয়েছে, কতদিন ধরে মজুত, সেই সংক্রান্ত তথ্যও নেওয়া হয়। বাইরে তখন খুচরো বাজারে চলছে দরদাম। কোনও সবজির দাম কত, ক্রেতার কাছ থেকে কত নেওয়া হচ্ছে, সেটাও নজর এড়ায়নি আধিকারিকদের। স্বাভাবিক কারণে দাম বাড়ছে, নাকি কোথাও মজুত করে রেখে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানোর চেষ্টা হচ্ছে, সেই জায়গাটাই খতিয়ে দেখে পুলিশ।
অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, কেনার পর ইচ্ছেমতো চড়া দামে পণ্য বিক্রি করা যাবে না। অতিরিক্ত হারে কোনও দ্রব্য মজুত করেও রাখা যাবে না। কালোবাজারির অভিযোগ সামনে এলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজারে তাই এবার শুধু ক্রেতার দরদাম নয়, ব্যবসায়ীর হিসেবও পুলিশের নজরে। চিনি, পেঁয়াজ, আলু কিংবা সবজি, দামের ওঠানামার মধ্যে কোথায় স্বাভাবিক বাজার, আর কোথায় কারসাজি, সেটাই খুঁজে দেখছে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ।