বীরভূম জেলা পরিষদের পর এ বার রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতি। অনাস্থা প্রস্তাবের মুখে ভোটাভুটির আগেই পদত্যাগের পথে হাঁটলেন রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিবেদিতা সাহা। গত কয়েকদিন আগে জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা হয়। দলের সদস্যদের অনাস্থার মুখে পড়ে ভোটাভুটির আগেই তাৎপর্যপূর্ণভাবে পদ থেকে ইস্তফা দেন কাজল শেখ (Kajal Sheikh)। ঋতব্রত শিবিরের এই বিধায়কের হঠাৎ ইস্তফায় রীতিমতো ঝড় ওঠে রাজ্য-রাজনীতিতে। এবার বীরভুমের (Birbhum) রাজনীতিতে সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি! কাজলের মতোই এ বার একই পথে হাঁটলেন রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সভাপতি।
সোমবারই রাজনগর পঞ্চায়েত সমিতির ১৫ জন সদস্যের মধ্যে তৃণমূলের ৯ জন সদস্যের স্বাক্ষর করা অনাস্থা প্রস্তাব সিউড়ির সদর মহকুমাশাসকের কাছে জমা পড়ে। তার পরের দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন নিবেদিতা। তাঁর জমা দেওয়া চিঠিতে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করা হয়েছে। চিঠিতে নিবেদিতা উল্লেখ করেছেন, তাঁর একমাত্র সন্তান ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। তাকে দেখভালের জন্য বিশেষ সময় প্রয়োজন। সেই কারণেই সভাপতির দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছেন তিনি। একইসঙ্গে সরকারি নিয়ম ও বিধি মেনে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্যও মহকুমাশাসকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
চিঠিতে ব্যক্তিগত কারণের উল্লেখ থাকলেও, রাজনৈতিক মহলের দাবি, এর পিছনে বিজেপির বড় একটা ভূমিকা রয়েছে। যদিও অনাস্থা প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ভোটাভুটি হলে হার নিশ্চিত বুঝেই আগাম পদত্যাগের পথে নিবেদিতা সাহা হেঁটেছেন বলে দাবি রাজনৈতিকমহলের একাংশের। যদিও সরকারি নিয়ম মেনে তাঁর পদত্যাগপত্র গৃহীত হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পদত্যাগ গ্রহণ হলে অনাস্থা প্রস্তাবের পরবর্তীতে আর তলবি সভা ডাকার প্রয়োজন হবে না বলেও জানা গিয়েছে। সেক্ষেত্রে এসডিও বা বিডিওর তত্ত্বাবধানে সমিতির সদস্যদের তরফে সর্বসম্মতিক্রমে নতুন সভাপতি মনোনীত করা হবে অথবা সদস্যদের মধ্যে ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন নতুন সভাপতি।