• একই ছাদের তলায় স্বামী-স্ত্রী আলাদা ঘরে থাকলে তা মানসিক নির্যাতন নয়, জানাল কর্নাটক হাইকোর্ট
    এই সময় | ২৬ আগস্ট ২০২৬
  • একই ছাদের তলায় স্বামী-স্ত্রী আলাদা ঘরে থাকলে তাকে নিষ্ঠুরতা বলা যায় না। বরং, যদি দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্যকলহ এবং সম্পর্কে তিক্ততা বজায় থাকে, তবে সেই সার্বিক পরিস্থিতিকে মানসিক নির্যাতন হিসেবে গণ্য করে বিবাহ বিচ্ছেদ মঞ্জুর করা যেতেই পারে। বিবাহবিচ্ছেদের এক মামলায় এ কথা বলল কর্নাটক হাইকোর্ট।

    বেঙ্গালুরুর পারিবারিক আদালত (ফ্যামিলি কোর্ট) দম্পতির বিবাহবিচ্ছেদেরই রায় দিয়েছিল। সেই সঙ্গে স্ত্রীকে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা খোরপোশ দিতে হবে বলেও স্বামীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন বিচারক। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেই উচ্চ আদালতে মামলা করেছিলেন স্বামী। তাঁর দাবি, স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের মিথ্যা অভিযোগ তুলে ভুয়ো মামলা করেছেন। পাল্টা স্ত্রীর অভিযোগ, খারাপ কথা বলে দিনের পর দিন মানসিক নির্যাতন চালিয়েছেন স্বামী। তাঁর কিছু খারাপ অভ্যাসের কারণেও বৈবাহিক জীবন বিষাক্ত হয়ে উঠেছিল।

    সব দিক খতিয়ে দেখে বিচারপতি ডিকে সিং ও বিচারপতি এইচ শান্তি ভূষণের বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, দম্পতি আলাদা ঘরে থাকছেন— শুধুমাত্র এই একটি বিষয় দেখে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। দেখতে হবে, কোন পরিস্থিতিতে তাঁরা আলাদা ঘরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। স্বামীর বক্তব্য খারিজ করেও আদালত বলেছে, দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কে টানাপড়েন, বারবার অশান্তির ঘটনাই প্রমাণ করে যে, মানসিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।

    স্বামী আর্জিও খারিজ করে দিয়ে পারিবারিক আদালত যে বিবাহবিচ্ছেদ এবং খোরপোশ সংক্রান্ত রায় দিয়েছিল, তা-ই বহাল রেখেছে কর্নাটক হাইকোর্ট। আদালত জানিয়েছে, এই দম্পতি মানসিক ভাবে একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছেন। তাঁদের সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার আর কোনও সম্ভাবনাও নেই। তাই কাউকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এই মানসিক কষ্টের মধ্যে থাকতে বাধ্য করা অনুচিত।

  • Link to this news (এই সময়)