• Nepal Flash Flood: হড়পা বানের প্রভাব ভারতেও, বিহার-উত্তরপ্রদেশে হাই অ্যালার্ট, বাড়ছে গণ্ডকের জল
    এই সময় | ২৬ আগস্ট ২০২৬
  • নেপালে ভয়াবহ হড়পা বানের জেরে এ বার উদ্বেগ বাড়ছে ভারতেও। হড়পা বিপর্যয়ে এ দেশেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা। বিশেষ করে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে জারি করা হয়েছে সতর্কতা। বুধবার সকালে আচমকা ভয়াবহ হড়পা বানে তছনছ হয়ে গিয়েছে তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের রাসুয়া জেলা ও তাঁর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল। এর পরেই নেপাল থেকে ভারতে প্রবাহিত গণ্ডক-সহ নদীগুলির জলস্তরের দিকে কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। বিপর্যয় এড়াতে বিহারে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় NDRF এবং SDRF-এর দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    বুধবার সকালে নেপালের রাসুয়া জেলার তিমুরে এবং সংলগ্ন এলাকায় ভোতেকোশী নদীতে আচমকাই জলের স্তর বেড়ে যায়। প্রবল কাদামাটি ও জলের স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে খেলনার মতো দুমড়ে-মুচড়ে ভেসে যায় একাধিক বাড়ি, যানবাহন, সেতু। ক্ষতিগ্রস্ত হয় জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও।

    বন্যায় এখনও পর্যন্ত ৫৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে এবং নিখোঁজ বহু মানুষ। খোঁজ মিলছে না ১৩৩ জন ভারতীয় পর্যটকেরও। নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের অনেকের নাম রয়েছে নিখোঁজের তালিকায়। দুর্গত এলাকায় নেপাল সেনা, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং নেপাল পুলিশ যৌথ ভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। হেলিকপ্টারের সাহায্যেও আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

    এর পরেও পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন। উজানে নদীর গতিপথে একটি বাধা তৈরি হওয়ায় ফের জলোচ্ছ্বাস বা দ্বিতীয় দফার বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। সেই কারণেই নদীর তীরবর্তী এবং নীচু এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    একাধিক নদী নেপাল থেকে ভারতের বিহারে প্রবেশ করেছে। তার মধ্যে অন্যতম গণ্ডক এবং কোশী। নেপালে আচমকা জলস্তর বাড়ার ফলে সেই জল ভারতের দিকে নেমে এলে বিহারের সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

    বিহারের প্রশাসন ইতিমধ্যেই এই পরিস্থিতিতে নজর রাখছে। পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, মুজফ্ফরপুর এবং বৈশালীর মতো জেলাগুলিতে বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। গণ্ডক নদীতে আচমকা জলস্তর বাড়ার আশঙ্কায় নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী তথা জলসম্পদ দপ্তরের মন্ত্রী বিজয় চৌধুরী জানিয়েছেন, নেপাল থেকে আসা জল গণ্ডক নদীর জলস্তর বাড়িয়ে দিতে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখনই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়নি এবং অযথা আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।

    প্রশাসনের অনুমান, নেপাল থেকে নেমে আসা জল প্রথমে ত্রিশূলী নদী হয়ে দেবঘাটের দিকে যাবে। সেখান থেকে গণ্ডক নদীর মাধ্যমে জলস্রোত বইবে ভারতের দিকে। বিপর্যয় সামলাতে প্রয়োজনে গণ্ডক ব্যারাজের গেট খুলে অতিরিক্ত জল নিরাপদে বার করে দেওয়ার ব্যবস্থার কথাও ভেবে রেখেছে প্রশাসন। এ ছাড়া জলস্তর বাড়তে পারে বিহারের বাল্মীকিনগর ব্যারাজ এলাকায়। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ প্রায় ২.৫ লক্ষ কিউসেক জল বাল্মীকিনগর ব্যারাজে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    তবে বর্তমানে গণ্ডক নদীর জলস্তর তুলনামূলক ভাবে কম রয়েছে। বিহার সরকারের মতে, এটিই আপাতত স্বস্তির বিষয়। ফলে পরিস্থিতির উপর নজর রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করার সুযোগ থাকছে।

    সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিহার সরকার NDRF এবং SDRF-এর দলকে প্রস্তুত রেখেছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত দুর্গত এলাকায় উদ্ধারকারী দল পাঠানো হবে। নৌকা, ত্রাণসামগ্রী এবং অন্যান্য জরুরি সরঞ্জামের ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নদীর জলস্তর কোথায়, কত দ্রুত বাড়ছে, তার উপরে নজর রয়েছে প্রশাসনের। নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নিচু এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে।

    শুধু বিহার নয়, নেপাল থেকে ভারতে বয়ে আসা নদীগুলির কারণে উত্তরপ্রদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। হিমালয় থেকে নেমে আসা নদীগুলির জলস্তর আচমকা বেড়ে গেলে সীমান্তবর্তী সমতল এলাকায় তার প্রভাব পড়তে পারে। তাই উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর জেলাকে বিশেষ ভাবে সতর্ক করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ প্রশাসনকে গণ্ডক ও নারায়ণী নদীর পরিস্থিতির উপরে নজর রাখতে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে রাজ্যের সেচ দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আপাতত গণ্ডকের জল বিপদসীমার নীচেই রয়েছে এবং বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা এখনও নেই।

    এ দিকে নেপালে উদ্ধারকাজও জোরকদমে চলছে। বিপর্যয়ের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ফলে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

    ১. নেপালের হড়পা বানের প্রভাব কি ভারতে পড়তে পারে?

    হ্যাঁ। নেপালের জল ভারতমুখী নদীগুলির মাধ্যমে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে পৌঁছতে পারে। বিশেষ করে গণ্ডক নদীর জলস্তর বাড়ার আশঙ্কায় দুই রাজ্যেই সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

    ২. বিহারের কোন কোন জেলায় সতর্কতা জারি হয়েছে?

    পশ্চিম চম্পারণ, পূর্ব চম্পারণ, গোপালগঞ্জ, মুজফ্ফরপুর ও বৈশালী-সহ গণ্ডক নদীর তীরবর্তী এলাকায় বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

    ৩. গণ্ডক নদীর জলস্তর কেন বাড়তে পারে?

    নেপালের ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থায় আচমকা বিপুল জল নামার ফলে সেই জল ক্রমে নিম্ন অববাহিকায় পৌঁছতে পারে। ত্রিশূলী হয়ে দেবঘাটের দিকে এবং সেখান থেকে গণ্ডক নদীর মাধ্যমে জল ভারতের দিকে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

    ৪. বাল্মীকিনগর ব্যারাজে কতটা জল আসতে পারে?

    প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ প্রায় ২.৫ লক্ষ কিউসেক জল বাল্মীকিনগর ব্যারাজে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত জল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।

    ৫. বিহারে কি এখনই বড় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে?

    এই মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নয়। গণ্ডক নদীর জলস্তর তুলনামূলক ভাবে কম থাকায় কিছুটা স্বস্তি রয়েছে। তবে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ এবং নেপাল থেকে জল নামার গতির উপর পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

    ৬. NDRF ও SDRF কি প্রস্তুত রাখা হয়েছে?

    হ্যাঁ। সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিহার সরকার NDRF ও SDRF-এর দল প্রস্তুত রেখেছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত উদ্ধারকাজে তাদের মোতায়েন করা হবে।

    ৭. উত্তরপ্রদেশের কোন এলাকায় সতর্কতা জারি হয়েছে?

    উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগরকে বিশেষ ভাবে সতর্ক করা হয়েছে। গণ্ডক ও নারায়ণী নদীর জলস্তরের উপর নজর রাখা হচ্ছে।

    ৮. উত্তরপ্রদেশে কি বড় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে?

    বর্তমানে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা নেই বলে রাজ্যের সেচ দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। গণ্ডকের জল বিপদসীমার নীচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নেপালের পরিস্থিতির কারণে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে।

    ৯. সাধারণ মানুষকে কী পরামর্শ দেওয়া হয়েছে?

    নদীর তীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে। অযথা আতঙ্কিত না হয়ে জলস্তর ও প্রশাসনের আপডেটের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)