• ‘মা গো বড় কষ্ট, আর পারছি না’, ঝাঁপ দেওয়ার আগের রাতে ফোনে কী বলেছিলেন IIT-র ওই পড়ুয়া?
    এই সময় | ২৭ আগস্ট ২০২৬
  • বাবার মৃত্যু, কলেজ বদল, মানসিক স্বাস্থ্যে টানাপড়েন — আর সামলাতে পারছিলেন না হৃষীকেশ কুমার (৩১)। আত্মহত্যার আগের দিন মা আশা পোদ্দারকে ফোন করেছিলেন তিনি। আশার দাবি, ‘আমাকে ফোনে বলল, মা গো বড় কষ্ট, আর পারছি না।’

    IIT দিল্লিতে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তরের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন হৃষীকেশ। গত ২২ অগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত তলা থেকে তিনি ঝাঁপ দেন বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। তবে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। গোটা ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে IIT কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আত্মহত্যার আগের দিন ছেলের সঙ্গে তাঁর কী কথা হয়েছিল, বিস্তারিত জানালেন আশা।

    মা’কে ফোন করে খুব কাঁদছিলেন হৃষীকেশ। আশার দাবি, ‘কাঁদতে কাঁদতে বলছিল, আমি কোনও কাজের নয়। মেধা, প্রতিভা থাকা সত্ত্বেও কিছু করতে পারছি না। একের পর এক বাধা আসছে।’ ২০১৪-য় তাঁর বাবার মারা যান। সেই ধাক্কা আর সামলাতে পারেননি হৃষীকেশ। সেই সময়ে এনআইটি রৌরকেলা ছাড়তে হয়। ভর্তি হন মগধ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকেই স্নাতক হন।

    ২০২৫-এর জুলাইতে আইআইটি দিল্লিতে ভর্তি হন হৃষীকেশ। প্রথম সেমেস্টারে ১০-এ ৮ পেয়েছিলেন। তার পরেই মানসিক স্বাস্থ্য ভেঙে পড়ে। গত বছরে হোলির পরে তাঁকে হাসপাতালেও ভর্তি করিয়েছিলেন সহপাঠীরা। প্রায় এক মাস চিকিৎসা চলে। তার পরে কিছুদিন মায়ের কাছে ছিলেন। তার পরে আর হস্টেল পাননি। পড়াশোনাও ঠিক মতো করতে পারছিলেন না। সেকেন্ড ও থার্ড সেমেস্টার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কলেজকে জানিয়েও দেন সেই কথা।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকছিলেন হৃষীকেশ। তাঁর ভাই অবিষেকের দাবি, আইআইটির চিকিৎসকরা তাঁকে একাধিকবার পরীক্ষা করেছিলেন। কিন্তু হস্টেল পাননি। গবেষণার কাজও মিলছিল না বলে দাবি তাঁর। হৃষীকেশ এর আগেও দু’বার আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন বলে দাবি তাঁর। আত্মহত্যার আগের রাতেও মাকে বলেছিলেন, ‘জীবন অর্থহীন মনে হচ্ছে। আর বাঁচতে চাই না।’

    গত আড়াই বছরে আইআইটি দিল্লির আট পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতির মধ্যে ঋষিকেশের মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে মঙ্গলবার পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন আইআইটি কর্তৃপক্ষ। পরিবারের দাবি, কলেজের ‘অসহযোগিতা’ ও বার বার এনওসি চাওয়ায় মানসিক ভাবে অসহায় বোধ করছিলেন হৃষীকেশ। তবে এই মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও দাবি নেই আশার। তিনি বলেন, ‘এই সব ভাবার মতো পরিস্থিতিতে আমি নেই।’

    ১. হৃষীকেশ কুমার কে ছিলেন?

    হৃষীকেশ কুমার ছিলেন ৩১ বছরের আইআইটি দিল্লির পদার্থবিদ্যার স্নাতকোত্তরের পড়ুয়া। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে তিনি আইআইটি দিল্লিতে ভর্তি হন।

    ২. কবে এবং কী ভাবে হৃষীকেশের মৃত্যু হয়?

    গত ২২ অগস্ট আইআইটি দিল্লির ক্যাম্পাসের সাত তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থল থেকে কোনও সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি।

    ৩. মৃত্যুর আগে মাকে কী জানিয়েছিলেন হৃষীকেশ?

    মৃত্যুর আগের দিন মাকে ফোন করে কাঁদতে কাঁদতে নিজের মানসিক যন্ত্রণার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। বলেছিলেন, ‘মা গো, বড় কষ্ট, আর পারছি না।’ পাশাপাশি জীবন অর্থহীন লাগছে এবং আর বাঁচতে চান না বলেও জানিয়েছিলেন বলে দাবি পরিবারের।

    ৪. হৃষীকেশের মানসিক সমস্যার কারণ কী ছিল?

    পরিবারের দাবি, বাবার মৃত্যু, পড়াশোনায় বার বার বাধা, হস্টেল না পাওয়া এবং আইআইটি কর্তৃপক্ষের ‘অসহযোগিতা’ তাঁর মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছিল। গবেষণার কাজেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ তাঁর ভাইয়ের।

    ৫. হৃষীকেশের মৃত্যুর পর আইআইটি দিল্লি কী পদক্ষেপ করেছে?

    ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আইআইটি দিল্লি পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পড়ুয়াদের দাবি, গত আড়াই বছরে প্রতিষ্ঠানে আট জন পড়ুয়ার আত্মহত্যা হয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)