নেপালে আটকে আরামবাগের ৬৫ জন, উদ্বিগ্ন পরিবারের সদস্যরা; লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা
আজ তক | ২৭ আগস্ট ২০২৬
নেপালে ভয়ঙ্কর বন্যা। চারদিকে হাহাকার। একের পর এক মৃত্যুর খবর আসছে। তারই মধ্যে জানা গেল, সেদেশে আটকে পড়েছেন হুগলির আরামবাগের ৬৫ জন বাসিন্দা। গত ২৪ অগাস্ট তাঁরা একটি বাসে করে নেপালে গিয়েছেন।
বর্তমানে সেই বাসটি নেপালের চেতনপার্ক এলাকায় রয়েছে। ঘটনাস্থলটি নেপালের বন্যা ও বিপর্যয় কবলিত এলাকা থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে।
আটকে পড়া আরামবাগের সেই পর্যটকদের বাড়ির লোকজন জানিয়েছেন, আজ সকাল থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। তাঁরা উদ্বিগ্ন। সন্ধের দিকে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। তবে আতঙ্ক এখনও কাটেনি। পরিবারের সদস্যরা চাইছেন, দ্রুত তাঁদের প্রিয়জনেরা নিরাপদে আরামবাগে ফিরে আসুন।
তাঁরা আরও জানিয়েছেন, নেপালে দুর্যোগের পর থেকে মোবাইল নেটওয়ার্ক ঠিকমতো কাজ করছে না। ফলে পর্যটকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। নিরাপত্তা নিয়েও তাঁরা উদ্বিগ্ন। বাসটির মালিকও পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কিত। তিনিও দ্রুত বাস এবং ৬৫ জন পর্যটককে নিরাপদে আরামবাগে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।
নেপালে বেড়াতে গিয়েছেন আরামবাগ ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৌভাগ্য দত্তর মা। সৌভাগ্য বলেন, 'মায়ের সঙ্গে সন্ধেবেলা কথা হয়েছে। সকালে থেকে যোগাযোগ করা যায়নি। খুব চিন্তায় ছিলাম। এখনও উদ্বেগ কাটেনি। আমি চাই, মা ফিরে আসুক। মা বাড়িতেই থাকুক। প্রায় ৬৫ জন রয়েছেন। প্রায় সবাই চেনা-জানা। আমাদের পাড়া থেকেও অনেকে গিয়েছেন। তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও আশায় বসে আছেন।'
এদিকে হড়পা বানের জেরে নেপালে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত অন্তত ৯৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি ৪০০-রও বেশি মানুষ নিখোঁজ, যাঁদের মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় রয়েছেন বলে। সেই সংখ্যা আরও বাড়তে পারেষ
প্রবল জলের তোড়ে বহু বাড়িঘর, গাড়ি, সেতু জায়গা ভেসে গিয়েছে। বন্যার জল ক্রমশ নীচের দিকে নামতে থাকায় নেপালের সঙ্গে সীমান্তবর্তী বিহারেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।