রেস্তোরাঁর মতো স্বাদ হয়নি বাড়িতে রান্না করা খাসির মাংসে। সেই কারণে স্ত্রীকে নৃশংস ভাবে খুন করলেন স্বামী। মাতৃহারা হলেন তিন সন্তান। গোটা ঘটনা দগ্ধে মরছেন ওই দম্পতির বড় ছেলে চিরঞ্জিৎ মণ্ডল। কেন?
চিরঞ্জিৎ একটি অনলাইন ফুড ডেলিভারি সংস্থায় কাজ করেন। মাঝেমধ্যেই হোটেল-রেস্তোরাঁর মাংসের পদ বাড়িতে আনতেন তিনি। তাঁর বাবা সুনীল মণ্ডল সেই মাংস খেতে ভালোবাসতেন। তার সঙ্গেই স্ত্রীকে অর্থাৎ চিরঞ্জিতের মাকে তিনি খোঁটা দিতেন হোটেলের মতো সুস্বাদু রান্না করতে পারেন না বলে। চিরঞ্জিতের অভিযোগ, সুনীল বলতেন, ‘তোমার রান্না করা মাংস এমন সুস্বাদু হয় না কেন?’ বুধবার মাংস রান্না নিয়ে সেই অশান্তি এমন চরমে পৌঁছয় যে চিরঞ্জিতের মা বেহুলা মণ্ডলের (৫২) দুই হাতের কব্জি কেটে দেন সুনীল। মৃত্যু হয়েছে ওই মহিলার। মালদার বৈষ্ণবনগর থানার কুম্ভিরা গ্রাম পঞ্চায়েতের সুকপাড়া এলাকার ঘটনা।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বুধবার সকালে সুনীল খাসির মাংস কিনে আনেন। সকাল সকাল চাষের কাজে মাঠে যাওয়ার আগে রান্না করতে বলেন। খেতে বসে শুরু হয় অশান্তি। অভিযোগ, কিছুটা খাওয়ার পরে সুনীল বলতে শুরু করেন রান্না হোটেলের মতো হয়নি। তারপরেই ভাতের থালা সরিয়ে উঠে বাড়িতে রাখা একটি ধারালো হাঁসুয়া এনে স্ত্রীর দু’হাতের কব্জি কেটে দেন। তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গ্রামের রাস্তা দিয়ে ছুটতে থাকেন পেশায় আশাকর্মী বেহুলা। তাঁর চিৎকারে আশপাশে লোক জড়ো হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁকে মালদা মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকেরা জানিয়ে দেন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জন্য মৃত্যু হয়েছে ওই মহিলার। এর পরে উত্তেজিত গ্রামবাসীরা তাড়া করেন সুনীলকে। তাড়া খেয়ে পালিয়ে গিয়েছেন সুনীল। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।
ওই দম্পতির তিন মেয়ে এবং দুই ছেলে। তিন মেয়ে বিবাহিত। বড় ছেলে চিরঞ্জিৎ বুধবার সকালেই বেরিয়ে গিয়েছিলেন খাবার ডেলিভারি করতে। ছোট ছেলে রাজেশ মণ্ডল ইংরেজবাজার শহরে একটি মেসে থাকেন। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিট-এর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘটনার সময়ে স্বামী–স্ত্রী ছাড়া আর কেউ বাড়িতে ছিলেন না।
চিরঞ্জিতের অভিযোগ, ‘এমনটা আগেও হয়েছে। মাঝেমধ্যেই মায়ের হাতের রান্না নিয়ে অভিযোগ করতেন বাবা। মেজাজ বিগড়ে গেলে গায়ে হাত তুলতেন। পাঁচ মাস আগে এই কারণেই আমায় আর মায়ের উপর হামলার চেষ্টা করেছিলেন বাবা। সেই সময়ে কোনওমতে প্রাণে বেঁচেছিলাম।’ এ দিনই বাবার বিরুদ্ধে বৈষ্ণবনগর থানার অন্তর্গত কুম্ভিরা পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন দুই ছেলে। ছোট ছেলে বলেন, ‘সকালে মায়ের উপরে হামলার ঘটনার কথা জানতে পেরে মেডিক্যালে ছুটে আসি। ততক্ষণে সব শেষ! ভাবতেই পারছি না বাবা সামান্য একটা বিষয় নিয়ে মায়ের হাতের কব্জি কেটে খুন করবেন।’ ছেলেরা সুনীলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।