এই সময়, বাঁকুড়া: বড়জোড়া ও বেলিয়াতোড় রেঞ্জ এলাকায় হাতির তাণ্ডবে দিশেহারা জঙ্গল লাগোয়া গ্রামের বাসিন্দারা। কয়েক দিন আগেই দলমা থেকে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম হয়ে একদল হাতি বাঁকুড়া উত্তর বনবিভাগের এই এলাকায় প্রবেশ করেছে। বর্তমানে বড়জোড়া রেঞ্জের পাবয়া জঙ্গলে পাঁচটি এবং দক্ষিণ সরাগোড়ায় ১৩টি সমেত মোট ১৮টি হাতি অবস্থান করছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার রাতে পাবয়া জঙ্গল থেকে আটটি হাতি দলছুট হয়ে শালি নদীর তীরে কুড়ারিয়া, একারিয়া ও বলরামপুর গ্রামের কৃষি জমিতে নেমে পড়ে। গোবিন্দভোগ, মিনিকিট ও স্বর্ণ ধানখেত তছনছ করায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা।
আমন ধানের থোড় আসার মুখে এমন সর্বনাশে মাথায় হাত চাষিদের। ক্ষতিগ্রস্ত চাষি দিগ্বিজয় ঘোষ বলেন, 'আটটি হাতি একসঙ্গে মাঠে নামলে কী অবস্থা হয় তা ভাবলেই চোখে জল আসছে।' তাঁর অভিযোগ, 'বন দপ্তর যা ক্ষতিপূরণ দেয় তা আদায় করতে যে খরচ হয় তা-ই ওঠে না।'
এ দিকে, একই রাতে বেলিয়াতোড় রেঞ্জের সাগরাকাটা গ্রামে আর একটি হাতি ঢুকে সারারাত তাণ্ডব চালায়। আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা কাঁসা ও টিন বাজিয়ে বহু কষ্টে সেটিকে জঙ্গলে খেদাতে সক্ষম হন। গ্রামবাসীদের আফসোস, 'হাতির ভয়ে রাতে ঠিকমতো ঘুমোতে পারি না আমরা। কী ভাবে যে দিন কাটছে তা ভগবানই জানেন।'
পরিস্থিতি সামাল দেওয়া প্রসঙ্গে বড়জোড়া এলিফ্যান্ট ম্যানেজমেন্ট অফিসার তথা শীতলা বিট অফিসার জয়ন্তকুমার ঘোষ বলেন, 'বৃষ্টি ও জল-কাদায় হুলা টিমের ছেলেরা সে ভাবে কাজ করতে পারেনি। তবুও ওরা বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করে হাতিগুলিকে ধান জমি থেকে সরিয়ে জঙ্গলে ঢুকিয়ে দেয়।' ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের সরকারি নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পাশাপাশি সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বন দপ্তর।