সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: কয়লা জ্বালিয়ে আর ইট পোড়াতে হবে না। ফলে পরিবেশ দূষণও হবে না। এমন দূষণহীনভাবে ইট তৈরির উদ্যোগ নিলেন শ্যামপুরের ইটভাটার মালিকরা। এই নিয়ে বুধবার একটি কর্মশালা হল। সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংস্থার প্রতিনিধিরা কীভাবে দূষণহীন পদ্ধতিতে ইট তৈরি করা যায়, তার পরামর্শ দেন। তাঁরা জানান, একটি বিশেষ ধরনের যন্ত্রে বিদ্যুতের সাহায্যে এবং কেমিক্যাল ব্যবহার করে কয়লা ছাড়াই ইট উৎপাদন করা সম্ভব। এজন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট একটি প্রযুক্তি। ওই সংস্থার মুখ্য নির্বাহী আধিকারিক স্যাম লি বলেন, এই পদ্ধতিতে নব্বই ভাগ মাটির সঙ্গে নয় ভাগ সিমেন্ট এবং এক ভাগ কেমিক্যাল মিশিয়ে তা বিশেষ যন্ত্রে ফেলে ইট তৈরি করা হয়। এভাবে তৈরি ইট হাওয়াতেই শুকিয়ে যাবে। কাঁচা ইট পোড়ানোর প্রয়োজন নেই। এখানে কয়লার ব্যবহার না হওয়ায় পরিবেশ দূষণও হবে না। ইতিমধ্যে ঝাড়খণ্ডে এই পদ্ধতিতে ইট তৈরি হচ্ছে। হাওড়া জেলার শ্যামপুরেও সেই প্রযুক্তির মাধ্যমেই ইট তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। শ্যামপুর থানা ব্রিক ফিল্ড ওনার্স ওয়েলফেয়ার আসোসিয়েশনের সভাপতি তন্ময় শি বলেন, ইট তৈরির জন্য মাটি একটা বড় ফ্যাক্টর। সব জায়গার মাটি সমান নয়। সেই কারণে আমাদের এখানে যে মাটি রয়েছে তার সঙ্গে কী মেশালে ওই ধরনের ইট তৈরি সম্ভব, তা যাচাইয়ের জন্য মাটি পরীক্ষা করতে পাঠানো হবে। মাটি পরীক্ষার রিপোর্ট পেলেই আমরা নতুন পদ্ধতিতে ইট তৈরি শুরু করে দেব। পাশাপাশি ঝাড়খণ্ডে গিয়ে জ্বালানিবিহীন ভাটাগুলি দেখে আসা হবে। তিনি আরও জানান, ওই নতুন পদ্ধতিতে মাটির সঙ্গে রঙ মিশিয়ে নানা রঙের ইট বানানো যাবে। এগুলো দেখতে সুন্দর হবে। পলেস্তরাও করতে না। খরচ বাঁচবে। প্রসঙ্গত, শ্যামপুরে একশোর বেশি ইটভাটা হয়েছে।