নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নোট বাতিলের সময় বলা হয়েছিল ভারতে ডিজিটাল ইকনমিকে শক্তিশালী করার জন্য এই সিদ্ধান্ত। যথাসম্ভব কম নগদ টাকার লেনদেন হবে এবার থেকে। সেই ঘোষণা ও প্রতিশ্রুতির ১০ বছর পর নগদ লেনদেন এবং বাজারে নগদ টাকার পরিমাণ এক ধাক্কায় অনেক বেড়ে গিয়েছে। ২০১৬ সালে যখন নোটবাতিলের ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই সময় বাজারে মোট নোটের লেনদেনের অর্থমূল্য ছিল ১৭.৭৪ লক্ষ কোটি টাকা। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে দেশে বাজারে যে নগদের লেনদেন হয়েছে তার অর্থমূল্য ৪১ লক্ষ কোটি টাকা। অর্থাৎ আড়াই গুণ বেশি। বস্তুত মূলত গ্রামীণ ভারতে ডিজিটাল ছেড়ে আবার নগদের প্রবণতা বেড়েছে। সম্প্রতি সেকথা স্বয়ং রিজার্ভ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নরও বলেছেন। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাংকের রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, যে হারে ইউপিআই লেনদেন বাড়ছে এবং যে হারে নগদ টাকায় লেনদেন বাড়ছে, এই দুইয়ের মধ্যে ফারাক ক্রমশই কমে যাচ্ছে।
জুলাইতে ইউপিআই লেনদেনের হার বেড়েছে বিগত বছরের এই মাসের তুলনায় ১৮ শতাংশ। আর নগদের লেনদেন বেড়েছে ১৩ শতাংশ। এই সামান্য ৫ শতাংশের ফারাক আগে ছিল না। ২০২১ সাল থেকে ক্রমশ এই ফারাক বেড়েছিল। অর্থাৎ ইউপিআই লেনদেন বৃদ্ধিহার বেড়েছিল অনেক বেশি। সেইমতো নগদের লেনদেন সেভাবে বাড়েনি। অথচ ২০২৪ সালের পর থেকে নগদ বিনিময়ের হার আকস্মিক বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর সেটাই ২০২৬ সালে শতকরা হিসাবে ডবল ডিজিটে পৌঁছে গিয়েছে। বরং ইউপিআই মাধ্যমে বৃহৎ অর্থের লেনদেন পাঁচ বছরে কমে গিয়েছে। নগদে লেনদেন বেড়েছে। তার মধ্যে চেক ও ড্রাফটও রয়েছে। প্রসঙ্গত ইউপিআই লেনদেনের বৃদ্ধিহার ২০১৯ সালে হয়েছিল ১৩৩ শতাংশ। আর বর্তমান আর্থিক বছরে সেটাই হয়েছে এখনও পর্যন্ত ১৮ শতাংশ। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার বাস্তব চিত্র বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এরকম কেন? এই উদ্বেগ রয়েছে রিজার্ভ ব্যাংকেরও।