নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: চায়ে কীটনাশক নিয়ে কাল, ২৭ আগস্ট বৈঠক করবেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং। কলকাতায় শ্রমদপ্তরের কনফারেন্স হলে বিকেল চারটেয় ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। শ্রমদপ্তরের চিঠিতে জানানো হয়েছে, চায়ে এমআরএল বা ম্যাক্সিমাম রেসিডিউ লিমিট নিয়ে উদ্ভূত সংকটের পাশাপাশি ক্ষুদ্র চা চাষি এবং বটলিফ ফ্যাক্টরি মালিকদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হবে বৈঠকে।
সম্প্রতি একাধিক নামী সংস্থা চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয়, এমআরএল বেশি থাকলে, সেই চা কিনবে না তারা। এর জেরে উত্তরবঙ্গের বটলিফ ফ্যাক্টরি মালিকরা নিজেদের চা ওইসব নামী সংস্থার কাছে বিক্রি না করার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। তারা জানিয়ে দেয়, এমআরএল সার্টিফিকেট দেখাতে না পারলে তারা ক্ষুদ্র চা চাষির কাছ থেকে কাঁচা পাতা কিনতে পারবে না। এতেই তৈরি হয় সমস্যা। কারণ, একজন ক্ষুদ্র চা চাষির পক্ষে কাঁচা পাতা বিক্রি করতে গিয়ে এমআরএল সার্টিফিকেট জোগাড় করা মুশকিলের। কারণ, প্রথমত প্রতিবার কাঁচা চা পাতার নমুনা পরীক্ষা করাতে ল্যাবে মোটা টাকা ফি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত রিপোর্ট পেতে সময় লাগবে অন্তত তিনদিন।
এই জটিলতায় সম্প্রতি এক সপ্তাহ কাঁচা চা পাতা কেনা বন্ধ রাখে বটলিফ কর্তৃপক্ষ। এরপর জলপাইগুড়িতে সাংসদ ডাঃ জয়ন্তকুমার রায়ের মধ্যস্থতায় ঠিক হয়, ক্ষুদ্র চা চাষিরা বাগানে নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার করবেন না। কোথাও চায়ে ক্ষতিকর এমন কীটনাশক বিক্রি হচ্ছে কি না, সেব্যাপারে কড়া নজর রাখবে প্রশাসন। নিয়মিত এ ব্যাপারে অভিযান চালাবে কৃষিদপ্তর। এর পর বটলিফ কর্তৃপক্ষ কাঁচা চা পাতা কেনা শুরু করলেও ক্ষুদ্র চা চাষিদের অভিযোগ, পাতার দাম তলানিতে ঠেকেছে। এমআরএল ইস্যুর আগে যেখানে কেজি প্রতি ২৫ টাকায় কাঁচা চা পাতা বিক্রি হচ্ছিল, সেখানে বর্তমানে দাম কমে দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকায়।
জলপাইগুড়ি জেলা ক্ষুদ্র চা চাষি সমিতির সম্পাদক বিজয়গোপাল চক্রবর্তী বলেন, কোনো ক্ষুদ্র চা চাষি যাতে বাগানে নিষিদ্ধ কিংবা মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার না করেন, সে ব্যাপারে বার্তা দেওয়া হয়েছে। তবে কাঁচা চা পাতার দাম যেভাবে কমানোর চক্রান্ত চলছে, এটা মোটেই ঠিক নয়।
অন্যদিকে, বটলিফ মালিকদের সংগঠন নর্থবেঙ্গল টি প্রোডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সঞ্জয় ধানুটির বক্তব্য, চা তৈরি করে যদি আমরা বিক্রি করতে না পারি, তাহলে কী করব। কাঁচা পাতার দাম নিয়ে এখন না ভেবে চা বাগানে যাতে নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার না হয়, সেব্যাপারে নিশ্চিত করা হোক।