• ভূমিকম্পে বহুতলের বাসিন্দাদের বাঁচাবে অভিজিতের ক্যাপসুল
    এই সময় | ২৭ আগস্ট ২০২৬
  • সঞ্জয় দে, দুর্গাপুর

    ভূমিকম্পের সময়ে বহুতল আবাসনের বাসিন্দাদের উদ্ধারে বিশেষ এক ধরনের ক্যাপসুল তৈরি করেছেন দুর্গাপুর স্টিল প্লান্টের কর্মী অভিজিৎ চন্দ। যার নাম তিনি দিয়েছেন ‘ব্ল্যাক বক্স ক্যাপসুল’ বা ‘সিসমিক প্রোটেকশন ইউনিট’। অভিজিতের দাবি, তাঁর এই যন্ত্র বহু মানুষের প্রাণ বাঁচাবে। সম্প্রতি ভারত সরকারের তরফে সিসমিক প্রোটেকশন ইউনিট তৈরির পেটেন্ট–ও পেয়েছেন অভিজিৎ। এই সাফল্যের জন্য দুর্গাপুর স্টিল প্লান্ট কর্তৃপক্ষ সংবর্ধিত করেছেন অভিজিতকে।

    ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে ডিপ্লোমা করেছেন অভিজিৎ। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের নানা বিষয় নিয়েও তাঁর আগ্রহ অসীম। সেই আগ্রহ ও জ্ঞান কাজে লাগিয়ে প্লান্টের জন্য একাধিক মেশিনও নাকি তৈরি করেছেন অভিজিৎ। স্লাইডিং সুইচ, কেবল ট্রলি–সহ তঁার তৈরি একাধিক যন্ত্রকে নানা ভাবে কাজে লাগিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

    ‘ব্ল্যাক বক্স ক্যাপসুল’ কী ভাবে কাজ করবে?

    অভিজিৎ বলছেন, ‘যন্ত্রের মেকানিজ়ম অনেকটা মাকড়সার মতো। মাকড়সার পা যেমন চারিদিকে ছড়িয়ে থাকে, একই ভাবে স্টিল রোপের মাধ্যমে বহুতল আবাসনের চারদিকে ঝুলবে এই ক্যাপসুল। বহুতলের ছাদের উপরে থাকবে রুফটপ স্প্রিং মেকানিজ়ম। এই যন্ত্র থেকে বহুতলের চারদিকে স্টিল রোপের মাধ্যমে ঝুলবে ওই ক্যাপসুল। সেই ক্যাপসুলের ভিতরে পাঁচ থেকে ১৫ জনের দাঁড়ানোর জায়গা থাকবে। এ ছাড়া থাকবে জল ও শুকনো খাবার রাখার ব্যবস্থাও। বাতাস চলাচলের জন্য থাকবে বেশ কিছু ছিদ্র।’ জানিয়েছেন, কার্বন ফাইবার ও স্টিল দিয়ে তৈরি হবে ক্যাপসুল। বিভিন্ন আকারের ক্যাপসুল তৈরি করা সম্ভব। বহুতলের প্রতিটি ফ্লোরে বাড়ির বাইরের দিকে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা থাকবে ক্যাপসুল। প্রতি ফ্লোর থেকে সেই ক্যাপসুলে ওঠার দরজা থাকবে। ভূমিকম্প হলেই বেজে উঠবে অ্যালার্ম। আওয়াজ শুনে তৎক্ষণাৎ বাসিন্দারা লিফটের বদলে ওই ক্যাপসুলে গিয়ে আশ্রয় নেবেন।’

    ভূমিকম্পে বহুতল ভেঙে পড়লে এই ক্যাপসুলের ভবিষ্যৎ কী? অভিজিৎ বলছেন, ‘ভূমিকম্পে বহুতল ভেঙে পড়লেও ওই স্প্রিং মেকানিজ়মের মাধ্যমে স্টিলের রোপে লাগানো ক্যাপসুল ঝুলতে থাকবে। দমকলকর্মী বা উদ্ধারকারী দল ক্যাপসুল থেকে বাসিন্দাদের বের করে আনতে পারবেন। তবে বহুতল আবাসনের একতলার বাসিন্দাদের জন্য এই ক্যাপসুলের প্রয়োজন নেই।’ তিনি যোগ করেন, ‘পেটেন্ট পেয়েছি। এ বার এই ক্যাপসুল বাণিজ্যিক ভাবে তৈরি করতে দেশ এবং বিদেশের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা বলব।’

    ২০০১–এ গুজরাটে ভূমিকম্পে ২০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। সেই ঘটনার ভয়াবহতা দেখে নিজেকে স্থির রাখতে পারেননি অভিজিৎ। কী ভাবে এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রাণ বাঁচানো যায়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেন। সেই ভাবনা থেকে উদ্ভাবন এই ক্যাপসুলের।

  • Link to this news (এই সময়)