বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, আসানসোল
খনি এলাকায় মাটির নীচে আগুন এক বড় সমস্যা। কয়লা চুরিতেও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির ব্যবসায়িক উৎপাদনের। পরিস্থিতির মোকাবিলায় ইসরোর সাহায্য নেবে কোল ইন্ডিয়া। এ বিষয়ে দুই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার মধ্যে মউ বা সমঝোতাপত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন কেন্দ্রের কয়লা মন্ত্রকের অন্যতম উপদেষ্টা বি ভিরা রেড্ডি।
দিল্লিতে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হয়েছিল বি ভিরা রেড্ডির সঙ্গে। তিনি জানান, রানিগঞ্জের খনি এলাকায় অথবা ঝাড়খণ্ডের ঝরিয়া খনি এলাকা সমেত ধানবাদে খনি অঞ্চলে কোথায় কোথায় কোলিয়ারির নীচে আগুন জ্বলছে এবং কোল ইন্ডিয়ার অন্তর্গত ইসিএল, বিসিসিএল, সিসিএল সমেত বিভিন্ন এলাকার কোলিয়ারিতে কোথায় কোথায় কয়লা চুরি হচ্ছে, এমন সব তথ্য জানার জন্য এ বার ইসরোর (ইন্ডিয়ান স্পেস রিসার্চ অর্গানাইজ়েশন) সহযোগিতায় ড্রোন নির্ভর স্যাটেলাইট ব্যবস্থাকে কাজে লাগাবে কোল ইন্ডিয়া। তাতে যে সব তথ্য জানা যাবে, সেগুলিকে আবার এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করে বিশ্লেষণ করা হবে।
রেড্ডি আরও জানিয়েছেন, মউ অনুসারে কোল ইন্ডিয়ার সাবসিডিয়ারি কোলিয়ারিগুলির বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন ছবি তুলবে। তা সরাসরি চলে যাবে নির্দিষ্ট স্যাটেলাইটে। সংগৃহীত তথ্য সেখান থেকে জমা হবে হায়দরাবাদের ন্যাশনাল রিমোট সেন্সিং ইনস্টিটিউটে। কয়লা মন্ত্রকের আধিকারিকরা দিল্লিতে বসেই বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই সমস্ত তথ্য সরাসরি দেখতে পারবেন। তিনি জানালেন, বিসিসিএল–এ প্রথমে এই কাজ শুরু হচ্ছে। এর পরেই ইসিএল, সিসিএল সমেত দেশ জুড়ে সর্বত্রই এই পদ্ধতিতে কাজ হবে। এর মাধ্যমে শুধু কয়লা চুরি বা খনি এলাকায় মাটির নীচে আগুনের হদিশ মিলবে, তা নয়। কোল ইন্ডিয়ার অন্তর্গত বিভিন্ন খনিতে কতটা গভীরে কী ধরনের কয়লা আছে, কোন মানের কত পরিমাণ কয়লা আছে, এমনকী কয়লাখনির জায়গা কোথায় দখল হয়েছে, কোনও লিজ় হোল্ডিং এলাকার মধ্যে বেআইনি খনন হচ্ছে কি না এবং খনি এলাকাগুলিতে কী পরিমাণ সবুজ গড়ে উঠেছে, সেই সব তথ্যও পাওয়া যাবে। রেড্ডি বলেন, ‘এ ভাবে সংগৃহীত তথ্যের এআই ভিত্তিক বিশ্লেষণ থেকে এক-একটি খনি এলাকার ভবিষ্যৎও জানা যাবে।’