• কলকাতা পুরসভার ভোট: বিজেপির টার্গেট ১৭০ ওয়ার্ড, বিদ্রোহীদের ‘প্রায়োরিটি’ ৫০
    এই সময় | ২৭ আগস্ট ২০২৬


  • এই সময়: আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে গেরুয়া শিবির কলকাতায় ২০৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে অন্তত ১৭০টিতে জয়ের টার্গেট নিয়ে মাঠে নামছে। ইতিমধ্যে কলকাতার ছোট লালবাড়িতে গেরুয়া নিশান ওড়াতে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে ইলেকশন ইন–চার্জ করেছে বিজেপি। ২০২৬–এর বিধানসভা নির্বাচনের পরে কলকাতায় প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম সহ জোড়াফুলের অধিকাংশ প্রাক্তন কাউন্সিলার বিদ্রোহী শিবিরে যাওয়ায় তৃণমূলের কালীঘাট শিবিরের পাশে হাতে গোনা কয়েকজন প্রাক্তন কাউন্সিলার রয়েছেন। এই সমীকরণের কারণেই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির আসন্ন পুর ভোটের দিকে তাকিয়ে চুপচাপ ঘুঁটি সাজানো শুরু করেছে।

    ‘এআইটিসি’ নাম এবং ‘জোড়াফুল’ প্রতীক শেষ পর্যন্ত কোন শিবিরের হাতে যাবে তা নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এখনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। কিন্তু তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবির ২০৯টির মধ্যে অন্তত ৫০টি ওয়ার্ডকে ‘প্রায়োরিটি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের শীর্ষ এক নেতার কথায়, ‘আসন্ন কলকাতা পুরভোটের রণকৌশল, সম্ভবনাময় ওয়ার্ড বাছাইয়ের মূল কাজ করছেন ফিরহাদ হাকিম। প্রাক্তন মেয়রকে এই কাজে সাহায্য করছেন জাভেদ খান, সন্দীপন সাহার মতো বিধায়করা।’

    বিদ্রোহী শিবিরের কলকাতার প্রথম সারির এক নেতার কথায়, ‘২০২৬ এর বিধানসভা ভোটে তৃণমূল ৪৩টি ওয়ার্ডে লিড নিতে পেরেছিল। এর মধ্যে উত্তর কলকাতার তুলনায় দক্ষিণ কলকাতা এবং দক্ষিণের সংযোজিত এলাকার ওয়ার্ডের সংখ্যা বেশি। মূলত যে ওয়ার্ডগুলিতে বিজেপি মার্জিনাল লিড পেয়েছে সেই ওয়ার্ডগুলি পাখির চোখ করা হচ্ছে।’

    বিদ্রোহী শিবির সূত্রের খবর, ডিলিমিটেশনের পরে কলকাতায় ওয়ার্ডগুলির যে নতুন বিন্যাস তৈরি হয়েছে তা নিয়ে ঋতব্রত, ফিরহাদ, জাভেদ, সন্দীপনরা ঘরোয়া স্তরে দফায় দফায় আলোচনা সেরে ফেলেছেন। বিধানসভা নির্বাচনে জোড়াফুল যে ওয়ার্ডগুলিতে লিড নিয়েছিল, ডিলিমিটেশনের পরে নতুন যে ওয়ার্ডগুলি তৈরি হচ্ছে সেখানে আগের কোন কোন ওয়ার্ডের অংশ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এবং রাজনৈতিক শক্তি কাদের কেমন––সব কিছু খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদ্রোহী শিবির মোট ২০৯ টি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দেবে, নাকি গ্রাউন্ড রিয়েলিটি চেক করে বর্তমান সাংগঠনিক শক্তি অনুযায়ী ১৫০–২০০ ওয়ার্ডে প্রার্থী দেবে তা কিছু দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে বলে সূত্রের খবর।

    মমতার নেতৃত্বাধীন কালীঘাট শিবিরও ইতিমধ্যে জল মাপতে শুরু করেছে। কিন্তু বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, রত্না শূর, দেবব্রত মজুমদার–––এরকম একদল পোড়খাওয়া প্রাক্তন কাউন্সিলার ছাড়া অধিকাংশ দাপুটে নেতা বিদ্রোহী শিবিরে চলে গিয়েছেন। অনেকেই নিষ্ক্রিয় রয়েছেন। তৃণমূলের এক বর্ষীয়ান প্রাক্তন কাউন্সিলারের কথায়, ‘কালীঘাটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন আবার বিদ্রোহী শিবিরের একাধিক নেতার সঙ্গেও সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলছেন, এমন অনেক প্রাক্তন কাউন্সিলার রয়েছেন। তবে দলনেত্রী নিশ্চয়ই ২০৯টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দেবেন।’

    কলকাতায় বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, চৌরঙ্গির বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় মমতার পাশে থাকায় ওই এলাকাগুলিতে কালীঘাট শিবির বিদ্রোহীদের টেক্কা দিতে পারে। কালীঘাট সূত্রের খবর, জোড়াফুল প্রতীকের স্বত্ত্বাধিকার নিয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেই কলকাতার পুরভোট নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মাঠে নেমে পড়বেন। কালীঘাট তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, ‘এখনও যা পরিস্থিতি তাতে তৃণমূলই কলকাতা পুরসভার বোর্ড ধরে রাখবে। কিছু গদ্দারকে মদত দেওয়া হচ্ছে। ওয়ার্ড ধরে ধরে আমাদের কর্মীদের মামলা দেওয়া হচ্ছে। আমরা ১ ইঞ্চি জমি ছাড়ব না।’

  • Link to this news (এই সময়)