• পঞ্চায়েতেও পুনর্বিন্যাসের পথে রাজ্য, বাড়বে আসন, ২০২৮–এর ভোটের আগেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
    এই সময় | ২৭ আগস্ট ২০২৬
  • সুগত বন্দ্যোপাধ্যায়

    আর্থিক দুর্নীতির মোকাবিলায় রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই আইন সংশোধন করে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা কাটছাঁট করেছে। এ বার পঞ্চায়েতের কাজে গতি আনতে ভৌগোলিক অবস্থান ও জনসংখ্যার নিরিখে রাজ্যে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিগুলি পুনর্বিন্যাসের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যে কলকাতা ও হাওড়া পুরসভার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস শেষ করে ভোট হবে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে। এর সঙ্গে পঞ্চায়েতেও পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে প্রশাসনিক সংস্কারের পথে এগোতে চায় রাজ্য। খুব শিগগিরই বড় গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিগুলির চিহ্নিতকরণে পঞ্চায়েত দপ্তর সমীক্ষার কাজ শুরু করতে চলেছে।

    রাজ্যে শেষ বার পঞ্চায়েত ভোট হয়েছিল ২০২৩–এর ৮ জুলাই। সেই অনুযায়ী ২০২৮–এর জুন-জুলাইয়ে রাজ্যে ফের পঞ্চায়েত ভোট হওয়ার কথা। তার আগেই গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষের পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, ‘উন্নয়নের কাজে গতি আনতে গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির পুনর্বিন্যাস সবার আগে দরকার।’ তাঁর ব্যাখ্যা, এমন অনেক পঞ্চায়েত সমিতি রয়েছে, যার আওতায় ১৭–১৮টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে এবং সেখানে জনসংখ্যা সাড়ে তিন লক্ষের বেশি। আবার মাত্র তিন-চারটে গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে একটা ছোট পঞ্চায়েত সমিতিও রয়েছে। দিলীপের কথায়, ‘পঞ্চায়েতগুলিতে ভারসাম্য এনে সুষ্ঠু ভাবে কাজ চালাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে এতে সম্মতি দিয়েছে।’

    রাজ্যে এই মুহূর্তে ৩,৩৩৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে, পঞ্চায়েত সমিতির সংখ্যা ৩৪৫। প্রাথমিক ভাবে স্থির হয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যা বাড়িয়ে অন্তত চার হাজার করা হবে। পঞ্চায়েত সমিতির সংখ্যা চারশোতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। রাজ্য সরকার কলকাতাকে পূর্ণাঙ্গ জেলার মর্যাদা দেওয়ার পাশাপাশি বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর, আরামবাগকে নতুন জেলা করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতি পুনর্গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। আবার এর মধ্যে জনগণনার কাজও শুরু হয়েছে। সেন্সাসের তথ্যও পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েত পুনর্গঠনের কাজে সাহায্য করবে।

    পঞ্চায়েত দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, মালদা, হুগলি জেলার একাধিক পঞ্চায়েত সমিতি জনসংখ্যা ও আয়তনের নিরিখে অনেকটাই বড়। সেখা‍ন‍ে এক একটি পঞ্চায়েত সমিতিতে ১৫–১৭টি করে গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণবঙ্গে হুগলি জেলার ধনেখালি এবং উত্তরবঙ্গে মালদার কালিয়াচক-৩ সবচেয়ে বড় পঞ্চায়েত সমিতি। দু’টি ক্ষেত্রেই ১৮টি করে গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। এর মধ্যে কালিয়াচক–৩ ভারত–বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়া রাজনৈতিক ভাবেও সংবেদনশীল। প্রশাসনিক কাজের সুবিধের জন্য এই দুই পঞ্চায়েত সমিতিকে ভাঙার পক্ষে প্রশাসনিক কর্তারা।

    এ ছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়া–১, কোলাঘাট, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবার–১, জয়নগর, ক্যানিং-১, উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর, চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতিগুলিগুলিও বেশ বড়। প্রতিটিতে ১৫–১৭টি করে গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক এলাকা অনুযায়ী এই পঞ্চায়েত সমিতিগুলিকেও দু’–তিন ভাগে বিভক্ত করা হতে পারে।

    বহু গ্রাম পঞ্চায়েতও রয়েছে যেগুলি জনসংখ্যার নিরিখে যথেষ্ট বড়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— বীরভূমের রামপুরহাট-২ ব্লকের মাড়গ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েত। যেখানে জনসংখ্যা ৩০ হাজারেরও বেশি। সর্বশেষ সেন্সাসের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৭,৮১৪টি পরিবারের বাস। এই ধরনের গ্রাম পঞ্চায়েতও ভাঙার পক্ষে প্রশাসন।

    পঞ্চায়েত দপ্তরের কর্তারা জানাচ্ছেন, এমন কিছু ছোট পঞ্চায়েত সমিতিও রয়েছে যেখানে মাত্র চার–পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েত আছে। যেমন— দক্ষিণ ২৪ পরগনার ঠাকুরপুকুরের মহেশতলা পঞ্চায়েত সমিতি, দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারি, উত্তর দিনাজপুরের হেমতাবাদ, কোচবিহারের সিতাই, পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর এবং বাঁকুড়ার মেজিয়া পঞ্চায়েত সমিতি।

  • Link to this news (এই সময়)