এই সময়, শিলিগুড়ি: টোটোচালকদের থেকে জোর করে টাকা আদায় করছে দুষ্কৃতীরা। এমন অভিযোগ পেয়ে বুধবার দুপুরে শিলিগুড়ির কোর্ট মোড়ে গিয়ে অভিযুক্তদের সতর্ক করলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। পাশে পুলিশ, সঙ্গে হ্যান্ড মাইক নিয়ে তিনি বলেন, 'তোলাবাজি বন্ধ করতে হবে। টোটোচালকদের থেকে কোনও রকম কাটমানি নেওয়া যাবে না। থাকবে না কোনও সিন্ডিকেট।' কারা, কোথায় টাকা তুলছে, গোয়েন্দা দপ্তরকেও খোঁজখবর নিতে বলেন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন আইএনটিটিইউসির রাজ্য সভাপতি (ঋতব্রত শিবির) নির্জল দে। তিনি বলেন, 'কোর্ট মোড়ে কোনওদিনই আমাদের ইউনিয়ন ছিল না। তবুও বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে যে কয়েকজন আমাদের ইউনিয়নের সঙ্গে ছিলেন, তাঁরা সকলেই এখন বিজেপিতে চলে গিয়েছেন। তবে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে মন্ত্রী যা বলেছেন, ঠিকই বলেছেন। গ্রেপ্তার করাই উচিত।'
তবে কি সরকার পরিবর্তনের পরেও তোলাবাজি চলছে? বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি ও সংলগ্ন এলাকায় সিন্ডিকেট ও তোলাবাজি আগের মতোই বহাল তবিয়তে রয়েছে। শহর ও শহরতলি মিলিয়ে পঞ্চাশের বেশি জায়গায় রয়েছে টোটো স্ট্যান্ড। এর মধ্যে বহু স্ট্যান্ডে ইউনিয়নের নামে দিন প্রতি ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত টোটো চালকদের থেকে আদায় করা হয় বলে অভিযোগ। টোটো চালকরা স্ট্যান্ডে গিয়ে দাঁড়ালে ১০ টাকা, ২০ টাকা করে তোলা দিতে হয়। টাকা বাঁচানোর ভয়ে অনেকে রাস্তায় যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের তোলেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক টোটোচালক বলেন, 'এনজেপি স্টেশনে নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট রয়েছে। বাইরের টোটোকে সেখান থেকে যাত্রী তুলতে দেওয়া হয় না। রেল হাসপাতাল মোড়ে ২০ টাকা না দিলে টোটো দাঁড়াতে দেওয়া হয় না।' তাঁর সংযোজন, 'মহাবীরস্থান, বিধান রোড, রাজা রামমোহন রায় রোডের সংযোগস্থলেও রয়েছে সিন্ডিকেট।'
ইউনিয়নের নাম করে যাতে টাকা তোলা না হয়, এ দিন শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের এডিসিপি পূর্ণিমা শেরপা ও ট্র্যাফিক বিভাগের এসিপি সুবীর দত্তকে খেয়াল রাখতে বলেছেন শঙ্কর। দুই পুলিশ আধিকারিকের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, 'কোনও টোটোচালকের থেকে কেউ যেন চার আনা পয়সা তুলতে না পারে।' এরপরেও তোলাবাজি চালু থাকলে কী হবে? শঙ্করের ঝটিতি জবাব, 'সমস্ত জায়গা থেকে টোটো স্ট্যান্ড তুলে দেওয়া হবে। দুষ্কৃতীদেরও জেলে ভরা হবে।'
কেন হঠাৎ ভরদুপুরে শিলিগুড়ির কোর্ট মোড়ে এসেছেন তার ব্যাখ্যা দিয়ে শঙ্কর বলেন, 'এখানে সিন্ডিকেটের নামে কেউ বা কারা টোটোচালকদের থেকে টাকা আদায় করছেন। আমার কাছে এই অভিযোগ এসেছে। সেই কারণে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এসেছি। এরপরেও যদি অভিযোগ আসে, তা হলে আমি পুলিশকে বলে দিচ্ছি, এই জায়গায় আর কোনও স্ট্যান্ডই থাকবে না।'