নেপাল হয়ে যাওয়ার কথা ছিল মানস সরোবর দর্শনে। তার মধ্যেই হড়পা বানের বিপর্যয়ে নিখোঁজ দুর্গাপুরের বামুনাড়ার বাসিন্দা অরিন্দম এবং মৌসুমি গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁদের পরিবার এবং প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, দুর্যোগের পরে তাঁদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। একাধিক বার ফোন করা হয়েছে। কিন্তু তাঁদের কোনও হদিশ নেই। নেপালে আটকে তারকেশ্বরেরও বাসিন্দা স্নেহাশিস দত্তও। বুধবার রাত থেকে তাঁর সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পরিবার।
অরিন্দমদের পড়শিরা জানান, বুধবার রাতে গঙ্গোপাধ্যায় বাড়িতে পুলিশ গিয়েছিল। তাঁদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে পুলিশ কথা বলেছে। তারা কথা বলেছে প্রতিবেশীদের সঙ্গেও। পুলিশ বলে গিয়েছে, কোনও ভাবে দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ করা গেলে তা যেন তৎক্ষণাৎ তাদের জানানো হয়।
গৌতম অধিকারী নামে এক প্রতিবেশী বলেন, ‘এক ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে নেপাল হয়ে মানস সরোবর যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন মৌসুমি এবং অরিন্দম। ২ দিন আগেও ওঁদের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে। গতকাল বিপর্যয়ের পরে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। তখন দেখি, যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’
অন্য দিকে, তারকেশ্বরের স্নেহাশিস ৩২ জনের একটি পর্যটক দলে রয়েছেন। গত ২১ অগস্ট মানস সরোবর উদ্দেশে দলটি রওনা হয়েছিল। নেপাল হয়ে চিনে ঢোকার কথা ছিল তাঁদের। তাঁরা কাঠমান্ডু পৌঁছন ২২ অগস্ট। স্নেহাশিসের পরিবারের লোকজন জানিয়েছেন, বুধবার ফোনে কথা হয়েছিল। তখন স্নেহাশিসেরা নেপাল-চিন সীমান্তে ছিলেন। কিন্তু হড়পা বানের পরে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যায়নি। সূত্রের খবর, ওই দলের বাকি ৩০ জন কলকাতার বাসিন্দা। অন্য জন হলেন ট্যুর ম্যানেজার জয়ন্ত সান্যাল।
বুধবার সকালে হড়পা বানের জলস্রোতে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় একাংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নেপাল পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ১৬২ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিঁখোজ বহু মানুষ। সংখ্যাটা আনুমানিক ৫৯৮। তার মধ্যে অন্তত ১৩৩ জন ভারতীয় রয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে খবর। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতিমধ্যেই দু’টি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছে। তা হলো— 033-2479 3311, 9147890181। কেন্দ্রীয় সরকারও ভারতীয় দূতাবাসের নম্বর শেয়ার করেছে। তা হলো— +9779851316807, +9779709107500।