• অন্নপূর্ণার সুবিধার টোপ দিয়ে সক্রিয় প্রতারণা চক্র, থানায় গৃহবধূরা
    বর্তমান | ২৭ আগস্ট ২০২৬
  • সবুজ বিশ্বাস, জঙ্গিপুর: অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার টোপ! জঙ্গিপুর পুরসভার কর্মচারী পরিচয় দিয়ে ফোন করে নাগাড়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ উঠল এক প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে। কয়েক হাজার টাকা খুইয়ে সাইবার থানার দ্বারস্থ হন একাধিক প্রতারিত গৃহবধূ। সপ্তাহ খানেক আগে বিষয়টি প্রথম প্রকাশ্যে এলেও থামার নাম নেই। প্রতারকরা লাগাতার নতুন নতুন উপভোক্তাদের ফোনে ফাঁদ পেতেই চলেছে। নাগরিকদের এবিষয়ে সচেতন ও সতর্ক করছে পুর কর্তৃপক্ষ।

    ঘটনার সূত্রপাত মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর পুর এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মূলত ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদেরই নিশানা করছে দুষ্কৃতীরা। পুরসভার কর্মচারী ভরত হরিজনের নাম ভাঙিয়ে ফোন করা হচ্ছে উপভোক্তাদের। ব্যাংক বিবরণী ও ফোনে আসা ওটিপি হাতানোর কৌশল ছকেই গায়েব করে দেওয়া হচ্ছে অ্যাকাউন্টে থাকা জমানো টাকা। প্রতারণার শিকার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাবিয়া বিবির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও হয়েছে প্রায় ২৯ হাজার ৯০০ টাকা। তিনি বলেন, দু’মাসের অন্নপূর্ণার ছয় হাজার টাকা পেয়েছি। আমার আরও জমানো টাকা ছিল। আরেক মাসের টাকা বাকি আছে, ফোনপে নম্বর না দিলে টাকা ঢুকবে না। ওদের কথা মতো এসব করতেই দেখি আমার সব টাকা নিয়ে নিয়েছে! 

    তনুশ্রী শীল নামের অপর এক বধূর হাতছাড়া হয়েছে ৩ হাজার টাকা। তিনিও অন্নপূর্ণার এক মাসের টাকা পেয়েছিলেন। পিছিয়ে নেই ১৫ নম্বর ওয়ার্ডও। সেখানের বাসিন্দা মমতা সরকার নন্দী খুইয়েছেন ৮ হাজার টাকা। বিষয়টি বুঝে মাথায় হাত পড়েছে গৃহবধূদের। খোয়া যাওয়া টাকার অঙ্ক ইতিমধ্যেই ৪০ হাজার ছড়িয়েছে। শুধু এরাই নন, নগেন মণ্ডল, পায়েল মাঝি ও মন্দিরা দাস সহ শহরের অন্তত ১৫ জন উপভোক্তার কাছে এই একই ধরণের প্রতারণামূলক ফোন এসেছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও অন্যরা সতর্ক থাকায় তাঁদের ক্ষেত্রে টাকা নিতে পারেনি প্রতারক।

    পুর কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয়েছে, এই ধরনের কোনো ফোন পুরসভা থেকে করা হচ্ছে না। সরকারি কোনো প্রকল্পের টাকার জন্য ওটিপি বা লিঙ্ক পাঠানো হয় না। অজানা কোনো নম্বর থেকে ফোন এলে নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, পিন বা ওটিপি কোনোভাবেই শেয়ার করবেন না। অচেনা নম্বর থেকে আসা মেসেজ বা হোয়াটসঅ্যাপে আসা অচেনা লিঙ্কে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকুন। 

    ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তনুপমা নন্দর প্রতিনিধি বিকাশ নন্দ বলেন, বিষয়টি জেনেই আমরা এলাকাজুড়ে প্রচার চালাচ্ছি। স্থানীয়দের সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। কোনো অসাধু চক্র পুরসভার নাম ভাঙিয়ে একাজ করছে। ইতিমধ্যেই প্রতারিত মহিলারা জঙ্গিপুর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ সম্পূর্ণ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং ফোন নম্বরগুলির উৎস খোঁজার চেষ্টা চলছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)