নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করছে কি না তা জানতে তৎপর হয়েছে টাস্ক ফোর্স। পুলিশকে এব্যাপারে খোঁজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবারও বাঁকুড়া সদর মহকুমা শাসক প্রলয় মণ্ডলের নেতৃত্বে শহরের রামপুরের বাজারে অভিযান চলে। টাস্ক ফোর্স পরপর দু’দিন অভিযান চালানোয় সবজির দর অনেটাই কমেছে। এভাবে সারা বছর যাতে প্রশাসন নজরদারি বজায় রাখে সেই দাবি করেছেন ক্রেতারা। মহকুমা শাসক বলেন, বেআইনি মজুতের বিরুদ্ধে আমরা কড়া ব্যবস্থা নিচ্ছি। কোনো গোডাউনে গোপনে কেউ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত করছে কি না, তা পুলিশকে খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
এদিন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বেগুনের দাম ৬০ টাকা কেজি থেকে কমে ৪০ টাকা হয়েছে। বাকি সবজির মধ্যে ঝিঙে, পটল, পেঁপের দামও গড়ে কেজিতে ২০ টাকা কমেছে। অথচ দু’দিন আগেই ওইসব সবজি ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল। ভেণ্ডি ও টমেটোর দামও ৪০ টাকা থেকে কমে ২৫-৩০ টাকা হয়েছে।
রামপুরের বাসিন্দা সাথী মোদক বলেন, গত দু’দিনে বাজারে ম্যাজিকের মতো সবজি ও আনাজের দাম কমেছে। গত সপ্তাহেও নিম্নচাপের অজুহাত দিয়ে চড়া দামে আমাদের সবজি কিনতে হয়েছে। বৃষ্টির কারণে সবজি গাছ নষ্ট হওয়ার কারণে দাম বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছিল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ফলন কমলে এই সপ্তাহে দাম আরও বাড়ার কথা ছিল। কারণ, চলতি সপ্তাহে আরও বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। এভাবে কালোবাজারি করা উচিত নয়। অবিলম্বে তা বন্ধ করতে প্রশাসনকে ধারাবাহিক নজরদারি চালাতে হবে। টাস্ক ফোর্সের এক আধিকারিক বলেন, পণ্য মজুত করার আগে কৃষি বিপণন, নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতি সহ অন্যান্য সরকারি দপ্তরকে জানাতে হয়। ওইসব দপ্তর বাজার দর নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি দেখে থাকে। আমাদের অনুমান, সরকারি দপ্তরকে দু-একটি গোডাউনের কথা পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়ে থাকেন। বাজারে কৃত্রিম অভাব সৃষ্টির লক্ষ্যে তার বাইরেও তাঁরা গোপনে সামগ্রী মজুত করেন। ওইসব গোপন গোডাউনের খোঁজ পেতে আমরা সচেষ্ট হয়েছি। সন্ধান পেলেই ঘটনায় জড়িতদের জেল-জরিমানা করা হবে।