তিনমাসের ভাতা বকেয়া থাকা সত্ত্বেও নীরব চুঁচুড়া পুরসভার কর্মীরা, বিতর্ক
বর্তমান | ২৭ আগস্ট ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: চাকরি হারানোর ভয়ে আন্দোলন থেকে সরে থাকছেন কর্মীরা। পেটে খিদে থাকলেও পিঠে আঘাতের আতঙ্কে খিদে ভুলছেন চুঁচুড়া পুরসভার অস্থায়ী কর্মীরা। অতীতে বারবার মাসের ভাতা মাসেই মিটিয়ে দেওয়ার দাবিতে রণংদেহি মূর্তিতে দেখা গিয়েছে শ্রমিক নেতাদের। কিন্তু রাজ্যে পদ্ম-সরকারের আমলে তিনমাস ধরে ভাতা না মিললেও মুখে কুলুপ এঁটেছেন নেতা-কর্মীরা। শ্রমিক মহল্লার অন্দরমহলের অভিযোগ, আন্দোলনে নামলেই কাজ খোয়ানোর প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে শাসকশিবির থেকে। আবার, শ্রমিক নেতারাও কোনো এক কারণে আন্দোলনের পথে যেতে নারাজ। যদিও এর স্পষ্ট প্রভাব পড়ছে নাগরিক পরিষেবায়। পুরসভাতে কাজ হলেও কর্মীমহলের গরজ না থাকায় উপভোক্তারা বিপাকে পড়ছেন।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’মাস ধরে পুরসভার সমস্ত অস্থায়ী কর্মীর ভাতা হয়নি। সম্প্রতি কিছু জনকে জুনমাসের টাকা দেওয়া হলেও সবার ভাগে টাকা জোটেনি। এরপর আগস্ট মাস শেষের মুখে এসে দাঁড়ালেও কবে ভাতা মিলবে তা নিয়ে কোনো দিশা চুঁচুড়া পুরসভা দেখাতে পারেনি। অথচ চুঁচুড়া পুরসভার সমস্ত বিভাগের মূল চালিকাশক্তিই হচ্ছেন অস্থায়ী কর্মীরা। সমস্যার কথা ঘুরিয়ে স্বীকার করে নিয়েছেন শ্রমিকদের যুক্তমঞ্চের নেতা তথা সিটু নেতা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, কোনো ভয়ের মুখে শ্রমিকরা আন্দোলনে নামছেন না, সেটা ঠিক নয়। আমাদের দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। কিন্তু যে হেতু পুরসভায় নতুন করে প্রশাসক বসেছে। তাই আমরা প্রশাসনকে কিছুটা সময় দিয়েছি। শ্রমিকদের অবস্থা খুব খারাপ। আমরা সেপ্টেম্বর মাসের প্রথমেই ভাতার বিষয়ে সঠিক দিশা না পেলে আন্দোলনে নামব। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অস্থায়ী কর্মী বলেন, অতীতে একমাসের টাকা বকেয়া থাকলেই আমরা প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু বিজেপি সরকারের আমলে আন্দোলন করা নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। আন্দোলন করলে কাজ থেকে ছাঁটাই করার হুমকি আছে। শ্রমিকদের মধ্যে বিভাজন করতে জুন মাসের ভাতা কিছু কর্মীকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসবই চলছে। এনিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা তথা প্রাক্তন পুরপ্রধান অমিত রায় বলেন, শ্রমিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলনে আমরা কখনও বাধা দিইনি। ফ্যাসিস্ট সরকাররে আমলে সেসবও শুনতে হচ্ছে। সমস্যা হচ্ছে কর্মীরা বাধ্য হয়ে কাজ করলেও কাজে যত্ন থাকছে না। তাতে নাগরিকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। যদিও বিজেপির হুগলি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, নাগরিক পরিষেবায় কোনো সমস্যা নেই। আমরা পুরকর্মীদের পাশে আছি। প্রচ্ছন্ন-প্রকট কোনো হুমকি দেওয়া হয়নি।