যত দ্রুত সম্ভব ডিলিমিটেশন বিল পাশ করাতে মরিয়া কেন্দ্র। বাদল অধিবেশনের নির্ধারিত সময়ে সেটা সম্ভব হয়নি। তবে তাতে দমে যেতে রাজি নন অমিত শাহরা। যে কোনও সময় সরকার ফের অধিবেশন ডাকতে পারে। তেমনটাই ইঙ্গিত দিলেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। তাঁর সাফ কথা, “অতীতে বহুবার এমন হয়েছে। সংসদের অধিবেশন কখন হবে, সেটা ঠিক করার অধিকার সরকারের রয়েছে।”
১৩ আগস্ট লোকসভা ও রাজ্যসভা উভয়ই অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি করা হয়েছিল। সাধারণত, পরবর্তী তিন থেকে চার দিনের মধ্যেই অধিবেশনটি আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। এখনও পর্যন্ত বাদল অধিবেশন স্থগিতের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়নি। যদিও বাজেট অধিবেশন ১৮ এপ্রিল শেষ হয় এবং ২০ এপ্রিল তা সমাপ্ত বলে ঘোষণা করা হয়। সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত বা মূলতবি করা হলেও রাষ্ট্রপতি কর্তৃক আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন বা অবসানের ঘোষণা না আসায় আইনিভাবে অধিবেশন শেষ হয়নি।
সংবিধান মোতাবেক সরকারের সুপারিশ মেনে রাষ্ট্রপতি অধিবেশন শুরু ও সমাপ্তির কথা ঘোষণা করেন।অধিবেশন সমাপ্তি ঘোষণার এই অস্বাভাবিক দেরি নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে। আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন সংক্রান্ত নারী সংরক্ষণ বিল বা অন্য কোনও বিশেষ প্রয়োজনে সরকার বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে বলে জল্পনা শুরু হয়েছে। বাজেট অধিবেশনে সরকার প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করতে পারেনি বলে ওই বিল আটকে যায়। বাদল অধিবেশনেও জেন জি বিক্ষোভে সংসদ অচল হয়েছিল, তাছাড়া পরিস্থিতি সরকারের অনুকূল ছিল না। সমস্যা হল, ডিলিমিটেশন যদি ২০২৯-এর নির্বাচনে কার্যকর করাতে হয়, তাহলে অবিলম্বে সেই আইন পাশ করাতে হবে। কারণ আইন পাশ করানোর পর ডিলিমিটেশন কমিটি গঠন তারপর সেই কমিটি দেশজুড়ে ঘুরে নতুন করে লোকসভা আসন পুনর্বিন্যাস করবে। পুরো বিষয়টি সময় সাপেক্ষ। তাই সরকার চাইছে যত দ্রুত সম্ভব আসন পুনর্বিন্যাস আইন পাশ করাতে।
কিরেন রিজিজু বলছেন, “ভুললে হবে না অধিবেশন এখনও সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়নি। অধিবেশন যেহেতু শেষ হয়নি তাই সরকার চাইলে যে কোনও সময় আবার অধিবেশন বসাতে পারেনি।” তাহলে কি বিশেষ অধিবেশনের কথা ভাবছে সরকার? সে প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেননি কিরেন রিজিজু। তবে তাঁর ইঙ্গিত, আপনি যেভাবে ভাববেন সেভাবেই ভাবুন।