• সল্টলেকে বহু ব্লকে তীব্র জলকষ্ট, ভুক্তভোগী কয়েক হাজার বাসিন্দা, উদাসীন বিধাননগর পুরসভা
    বর্তমান | ২৭ আগস্ট ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: বিধাননগর পুরভবন থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্ব। সেখানে এই ভ্যাপসা গরমে জল পেতে জীবন ওষ্ঠাগত পুর নাগরিকদের। করুণাময়ী হাউজিংয়ে ফেজ-ওয়ানের ৪টি ব্লকের বাসিন্দাদের পড়তে হয়েছে তীব্র জলকষ্টের মুখে। শুধুমাত্র এই চারটি ব্লক নয়, প্রায় একমাস ধরে সল্টলেকের একাধিক ব্লকে শুরু হয়েছে জলের তীব্র আকাল। এর ফলে কয়েক হাজার বাসিন্দা প্রবল সমস্যার মুখে পড়েছেন। 

    পুরসভার দ্বারস্থ হয়েছেন আবাসিকরা। একাধিকবার চিঠি দিয়ে পরিস্থিতির কথা জানিয়েছেন তাঁরা। কিন্তু পুর কর্তৃপক্ষ উদাসীন, কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের। সমস্যার কোনো সমাধান না হওয়ায় তাঁদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। অনেকে জল কিনে খেতে শুরু করেছেন। কবে এই সমস্যা দূর হবে জানেন না। পুরসভার সাফাই, টালা এবং পলতা থেকে জল সরবরাহ কম হচ্ছে। ফলে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ব্যাহত হচ্ছে সরবরাহ। সমস্যা সমাধানে নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। 

    বিধাননগর পুরসভার ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে সল্টলেকে আছে ১৪টি ওয়ার্ড। বাসিন্দাদের অভিযোগ, একাধিক ব্লকে জল কম আসছে। দিনে তিনবার জল এলেও তা পর্যাপ্ত নয়। আবাসিকরা প্রাথমিকভাবে ভেবেছিলেন, কোনো সমস্যার কারণে জল কম আসছে। কিন্তু দিনের পর দিন সমস্যা লেগে থাকায় ব্লকের পাম্পম্যানরা পড়েছেন বিপাকে। তাঁরা আবাসিকদের প্রশ্নে জেরবার। ধারাবাহিক জলকষ্টের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা করুণাময়ী হাউজিংয়ের বাসিন্দাদের। সেখানে ফ্রেজ-১-এর ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ এবং ‘ডি’ এই চারটি ব্লক আছে। সেখানকার আবাসিকদের কথায়, প্রায় ৮৮০টি ফ্ল্যাট রয়েছে। আবাসিক সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। প্রায় একমাস ধরে তীব্র জলকষ্ট চলছে। তিনবার দিনে জল আসলেও সকলের কাছে তা পৌঁছচ্ছে না। ফলে পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। এক আবাসিক বলেন, আমাদের চারটি ব্লকে ১০ নম্বর ট্যাংক থেকে জল সরবরাহ হয়। সেখানকার জল ট্যাংকারে করে অন্য জায়গায় পাঠানো হয়। ফলে জল সরবরাহ আরও কমে যাচ্ছে। করুণাময়ী হাউজিংয়ের আবাসিক এবং ফেজ-১ এর অ্যাডমিনিস্ট্রেটর পি কে শাসমল বলেন, ‘একমাস ধরে আমরা জলকষ্টে ভুগছি। পাঁচবার পুরসভাকে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোনো ফল হয়নি। এবার জল কিনতে হবে। শুধুমাত্র আমাদের ফেজ-১ এ দশ হাজারেরও বেশি মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। জানি না কবে সমস্যা মিটবে।’ 

    পুরসভার বক্তব্য, বিধাননগর পুরসভার জল উৎপাদনের নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা নেই। টালা, পলতা এবং নিউটাউন থেকে জল আসে। মাসখানেক ধরে টালা এবং পলতা থেকে জল কম আসছে। ফলে করুণাময়ী সহ সল্টলেকের বহু ব্লকে কম জল পৌঁছচ্ছে। এই রিপোর্ট আমাদের কাছেও এসেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিভাগে জানানো হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার পানীয় জলের সমস্যা নিয়ে পুরসভার প্রশাসক একটি বৈঠক ডেকেছেন। আশা করা হয় কয়েকদিনের মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে। ১০ নম্বর ট্যাংক থেকে ট্যাংকারে করে জল নিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)