Big Breaking: নেপালে ঘুরতে গিয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ে আটকে বহু ভারতীয় পর্যটক। নাগরিকদের নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ল বিদেশ মন্ত্রকের তথ্য। বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক (MEA) জানিয়েছে, ২৮৮ জন ভারতীয়ের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি প্রায় ২০০ ভারতীয় নাগরিক চিনের দিকে সীমান্ত এলাকায় আটকে রয়েছেন। তাঁদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা এবং নিখোঁজদের সন্ধানে নেপাল ও চিনের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তাঁদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করছে কেন্দ্র। সহায়তার জন্য খোলা হয়েছে কন্ট্রোলরুম। ইতিমধ্যেই বিধস্ত নেপাল থেকে ২১ জনকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে ভারতে।
নেপাল-চিন সীমান্তের কাছে ভয়াবহ হড়পা বান ও ভূমিধসের জেরে ইতিমধ্যেই বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বুধবারের বিপর্যয়ে নেপাল ও চিনের তিব্বত—দুই এলাকাতেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজও কঠিন হয়ে উঠেছে।
বিদেশ মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকায় থাকা ২৮৮ জন ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে এখনও যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া, মোবাইল নেটওয়ার্ক না থাকা এবং দুর্গম এলাকায় আটকে পড়ার কারণেও অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না । এই পরিস্থিতিতে তাঁদের খোঁজে নেপালের প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। এর আগে নেপালের পর্যটন ও পুলিশ সূত্রে নিখোঁজ বিদেশিদের তালিকায় ভারতীয়দের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন পরিসংখ্যান সামনে এসেছিল। ফলে উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, নিখোঁজের তালিকাও পরিবর্তিত হচ্ছে।
বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশূলী-১ বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ করতে নেপালে গিয়েছেন ৭৩ জন ভারতীয় শ্রমিক। এ ছাড়া তামিলনাড়ু থেকে আসা ৩৭ ও ৪৯ জন নাগরিককে নিয়ে দু’টি ট্র্যাভেল এজেন্সি নেপালে বেড়াতে গিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গে থেকে গিয়েছেন ৩২ জনের একটি পর্যটকদের দল। এদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাই তাঁদের অবস্থান জানতে নেপাল সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।
শুধু নেপালেই নয়, বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে নেপাল-চিন সীমান্তের দু’দিকেই। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, প্রায় ২০০ ভারতীয় নাগরিক চিনের দিকে আটকে রয়েছেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তাঁদের নেপালে বা নিরাপদ এলাকায় ফিরিয়ে আনার বিষয়টি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র জানিয়েছেন, চিনের সীমান্তে আটকে থাকা আরও ২০০ জন ভারতীয় নাগরিক দেশে ফেরার জন্য সহায়তা চেয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯৫ জন দারচেনে রয়েছেন এবং বর্তমানে নেপালে প্রবেশের জন্য হিলসার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। আরও চারজন জিলং শহরে এবং প্রায় ৩০ জন জুতুলফুকে ও সাগার পথে আটকে আছেন খবর।
চিনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতেও বহু মানুষ নিখোঁজ। চিনা সরকারি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে নিখোঁজ ৫৫৮ জন, যাঁদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। চিনের তরফে তাঁদের মধ্যে অন্তত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক ভাবে বুধবার নেপাল ট্যুরিজ়ম বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছিল ১৩৩ জন ভারতীয় নিখোঁজের তালিকায় রয়েছেন। কিন্তু এ দিন উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে নেপালের বিদেশমন্ত্রীর দাবি, সংখ্যাটা ১৩৩ নয়, বরং প্রায় ৩০০। তবে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক এ দেশের নাগরিকদের সুস্পষ্ট তথ্য দিয়েছেন।
বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ নেপাল-চিন সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় আচমকা বিপুল জল, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত নেমে আসে। রাসুয়া, নুওয়াকোট এবং ধাদিং-সহ একাধিক এলাকায় তার ভয়াবহ প্রভাব পড়ে। নদীর তীরবর্তী বহু বাড়ি, রাস্তা, সেতু এবং বিদ্যুৎ পরিকাঠামো স্রোতে ভেসে যায়। কোথাও কোথাও কয়েক মিটার পুরু কাদার স্তর জমেছে।
প্রবল স্রোতে বহু মানুষকে ভেসে যেতে দেখা গিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। রাসুয়ার এক স্বাস্থ্যকর্মী তুলা বাহাদুর বিকের কথায়, নদীর ধারের বসতিগুলি কার্যত সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে এবং তাঁর নিজের পাঁচ আত্মীয়ও নিখোঁজ।
অনেক নিখোঁজ ব্যক্তি কৈলাস-মানস সরোবরের উদ্দেশে যাত্রা করা তীর্থযাত্রী বা পর্যটক ছিলেন। নেপাল-চিন সীমান্তের এই রাস্তা তীর্থযাত্রী ও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে বিপর্যয়ের পরে বিভিন্ন দেশের বহু নাগরিকের খোঁজ মিলছে না। নেপাল ও চিনের তিব্বত মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১,৩০০ বলে জানিয়েছে রয়টার্স। নেপালে নিখোঁজ ৮২৬ জনের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন বিদেশি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ভারত ছাড়াও আমেরিকা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া ও ক্যানাডার নাগরিকরাও রয়েছেন। নেপাল পুলিশের হিসাবে বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা পর্যন্ত অন্তত ২৮৯ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে।