কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনে নেপালে গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু হড়পা বানের বিপর্যয়ের পর থেকেই নিখোঁজ উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের শিক্ষক দম্পতি— স্বপন এবং তাঁর স্ত্রী মৌ মণ্ডল। যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বারাসতের শিক্ষিকা সুস্মিতা ভট্টাচার্যের সঙ্গেও।
স্বপন এবং মৌ বসিরহাট পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের খান বাহাদুর রোডের বাসিন্দা। দু’জনেই এখন অবসরপ্রাপ্ত। পরিবার সূত্রে জানা যায়, দিন সাতেক আগে নেপালে বেড়াতে যান তাঁরা। সেখান থেকে তাঁদের কৈলাস যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার বিপর্যয়ের পর থেকে তাঁদের সঙ্গে আর যোগাযোগ নেই। তাঁদের মোবাইল ফোন বন্ধ। কথা না হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রবল উৎকণ্ঠায় রয়েছেন পরিবারের লোকেরা।
বারাসতের সুস্মিতাও ৩০ জনের একটি পর্যটক দলের সঙ্গে নেপালের উদ্দেশে রওনা হন গত ২১ অগস্ট। তাঁর স্বামী বাড়িতে ছিলেন। ছেলে থাকেন কসবায়। পরিবার সূত্রে খবর, বুধবার থেকে সুস্মিতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে কলকাতা চলে এসেছেন স্বামী। পরিবার সূত্রে খবর, সুস্মিতাদের দল নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে পৌঁছনোর পর তাঁরা পশুপতিনাথ মন্দিরে যায়। এর পরে সেখান থেকে মানস সরোবর যাওয়ার পথে কেরুং এলাকার দিকে রওনা দেয় দলটি। সেই যাত্রাপথে কোনও এক সময়ে সুস্মিতার সঙ্গে পরিবারের লোকেদের কথা হয়েছিল। তার পর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
বুধবার সকালে হড়পা বানের জলস্রোতে রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলায় একাংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। নেপাল পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ১৭৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিঁখোজ বহু মানুষ। তার মধ্যে অন্তত ৩০০ জন ভারতীয় রয়েছেন বলে সরকারি সূত্রে খবর। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ইতিমধ্যেই দু’টি হেল্পলাইন নম্বর প্রকাশ করেছে। তা হলো— 033-2479 3311, 9147890181। কেন্দ্রীয় সরকারও ভারতীয় দূতাবাসের নম্বর শেয়ার করেছে। তা হলো— +9779851316807, +9779709107500।