সামনেই পুজো। কাছে কিংবা দূরে, বাজেট এবং সময় অনুযায়ী ট্যুর প্ল্যান করছেন ভ্রমণপ্রেমী মানুষ। কেউ যাচ্ছেন সাগর পাড়ে, তো কেউ আবার চড়ছেন পাহাড়ে। এছাড়া কারও আবার পছন্দ জঙ্গল। আর ডুয়ার্সের জঙ্গল মানেই সবুজের সমারোহ। ডুয়ার্সের একাধিক জঙ্গলে পর্যটন মরশুমে এতদিন অনলাইন টিকিট বুকিং বন্ধ ছিল। ফলে সাফারি করতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছিল বিশাল সংখ্যার পর্যটকদের। স্পটে গিয়ে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকেই বুকিং পাচ্ছিলেন না। ফলে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। এবার তাঁদের জন্য রয়েছে স্বস্তির খবর। সামনেই শুরু হচ্ছে পর্যটন মরশুম। সব ঠিকমতো চললে তার আগেই ডুয়ার্সের জলদাপাড়া, গরুমারা ও বক্সা জঙ্গলে জিপসি সাফারিতে ফিরছে অনলাইন বুকিং। অফলাইন বুকিংয়ে কালোবাজারী ও পর্যটকদের হয়রানি রুখতেই রাজ্য বনদফতরের এই পদক্ষেপ। বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁড়াও নিজেই সেকথ জানিয়েছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে অনলাইন বুকিং
জলদাপাড়া বনবিভাগের তরফে গত বছর ২৭ জানুয়ারি থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল জাতীয় উদ্যানে সাফারির অনলাইন বুকিং। এতদিন টিকিট কাউন্টারের লাইনে দাঁড়িয়ে 'আগে এলে আগে পাবেন' এই পদ্ধিততে বুকিং হচ্ছিল। প্রসঙ্গত, গত বছরের ২২ জানুয়ারি আলিপুরদুয়ারের প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রশাসনিক বৈঠকে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় জিপসি সাফারিতে অনলাইন বুকিং তুলে দিলে অফলাইন বুকিংয়ের নির্দেশ দেন। যার ফলে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে দালালচক্র। পর্যটকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছিল বলেও অভিযোগ।
বনমন্ত্রী যা জানালেন
বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁড়াও বলেন, ‘জঙ্গল সাফারি করতে এসে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা হয়রানি ও দালালদের খপ্পড়ের মুখে পড়ছিলেন। আমাদের কাছে একাধিক অভিযোগ আসছিল। এই অবস্থা চলতে দেওয়া যায় না। পর্যটকদের স্বার্থে জিপসি সাফারিতে অনলাইন বুকিং ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।’ বনদপ্তরের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পর্যটন মহল ও পর্যটন সংস্থাগুলি।
পর্যটন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ
অফলাইন বুকিংয়ের ক্ষেত্রে সাফারির মূল্য বেশ খানিকটা কমলেও বুকিংয়ের নিশ্চয়তা না থাকাতেই পর্যটকদের ভিড় কমছিল ডুয়ার্সের তিন জঙ্গলে। অনলাইনে আগে থেকে বুকিং করা থাকলে সেই আশঙ্কা থাকত না। পর্যটন ব্যবসায়ীদেরও অভিযোগ ছিল, অনলাইন পদ্ধতি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাফারির বুকিং আদৌ মিলবে কি না তা নিয়ে দেশ–বিদেশের পর্যটকরা অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। আর ওই সুযোগে স্থানীয় স্তরে সাফারির অফলাইন বুকিংয়ে মাথা চাড়া দিয়েছে দালালচক্র। বাড়তি টাকা নিয়ে সাফারির টিকিট পাইয়ে দেওয়ার কিছু অভিযোগও সামনে উঠে আসছিল।
চলুন জেনে নেওয়া যাক বুকিং-এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-
কী ভাবে করবেন বুকিং?
WBSFDA-এর ওয়েবসাইট থেকে অনলাইনে জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের সাফারি বুক করা যেতে পারে। এই জঙ্গলে অবশ্য বিভিন্ন সাফারির সুবিধা রয়েছে। ওয়েবসাইট অনুযায়ী চিলাপাতা কার সাফারি, চিলিপাতা কার সাফারি রুট ২, মাদারিহাট কার সাফারি, শালকুমার গেট কার সাফারি-সহ বেশকিছু সাফারির ব্যবস্থা রয়েছে।চিলাপাতা কার সাফারি - এই সাফারি শুরু হচ্ছে চিলাপাতা রেঞ্জ অফিস থেকে। তারপর শিকারী রেন, বানিয়া ওয়াচ টাওয়ার, পার্ল রোড, মেন্দাবাড়ি ওয়াচ টাওয়ার, বানিয়া রুইনস, সিসি লাইন ওয়াচ টাওয়ার ঘুরে ফের চিলাপাতা রেঞ্জ অফিসে ফিরে আসবে।চিলাপাতা কার সাফারি রুট ২ - কোদাল বস্তি রেঞ্জ অফিস থেকে শুরু হচ্ছে এই সাফারি। তারপর হার্ট রোড, মেন্দাবাড়ি ওয়াচ টাওয়ার, পার্ল রোড, সিসি লাইন ওয়াচ টাওয়ার, বানিয়া রুইনস রয়ে ফের কোদাল বস্তিতে ফিরে আসবে।মাদারিহাট কার সাফারি - মাদারিহাট এনআইসি, হরিণডাঙা ওয়াচ টাওয়ার, জলদাপাড়া ওয়াচ টাওয়ার, খাওকান্দ পাড়া হয়ে ফের মাদারিহাট এনআইসি-তে ফিরে আসতে হবে এই সাফারিতে। মাদারিহাটের আরও একটি কার সাফারিতে মাদারিহাট এনআইসি, হলং এফআরএইচ, জলদাপাড়া ওয়াচ টাওয়ার, খাওকান্দ পাড়া হয়ে ফের মাদারিহাট এনআইসি-তে ফিরে আসতে হবে।শালকুমার গেট কার সাফারি - এক্ষেত্রে শালকুমার গেট থেকে শুরু হয়ে হলং এফআরএইচ, হরিণডাঙা ওয়াচ টাওয়ার, জলদাপাড়া ওয়াচ টাওয়ার হয়ে ফের শালকুমার গেটে শেষ হবে সাফারি।সাফারির সময় ও খরচ - সকাল ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা, ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা, দুপুর দেড়টা থেকে ৩টে এবং বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে ৫টা পর্যন্ত চলে সাফারি। একজনের প্রবেশ মূল্য ২৮০ টাকা। গাড়ি খরচ পড়বে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। গাইডের খরচ ৩৫০ টাকা।হলং ও এনইসি ওয়াচ টাওয়ার - এছাড়া হলং ও এনইসি ওয়াচ টাওয়ার থেকেও দেখা যাবে জঙ্গলের শোভা। সেক্ষেত্রে সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা, সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৮টা ও সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জঙ্গল দেখার সুযোগ মিলবে। খরচ জন প্রতি ১২০০ টাকা।