• চড়া দামেও ইচ্ছেমতো মিলবে না চিনি, অনলাইন অর্ডারেও কেনাকাটায় কড়াকড়ি
    প্রতিদিন | ২৭ আগস্ট ২০২৬
  • উৎসবের মরশুমে বাঙালির মিষ্টি নাহলে কি চলে? পুজোর আগেই হাত পুড়ল আমজনতার। বাজারজুড়ে চিনির দামে (Sugar Price Hike) হঠাৎ আগুন! শুধু যে দাম বেড়েছে তা নয়। কেনাকাটাতেও আরোপ করা হয়েছে নানারকম বিধিনিষেধ। ইচ্ছেমতো কেনা যাবে না আর চিনি। শুধুমাত্র পরিবার মেনে বরাদ্দের চিনিটুকুই মিলবে। দামের চড়া গ্রাফ আর জোগানের এই দ্বিমুখী খাঁচে উৎসবের মুখে বেশ ব্যাকফুটে সাধারণ ক্রেতারা।

    অনলাইন থেকে অফলাইন, সর্বত্রই এখন এক ছবি। ‘জেপ্টো’, ‘ব্লিনকিট’ কিংবা ‘সুইগি ইনস্টামার্ট’-এর মতো জনপ্রিয় কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলিতে একলপ্তে অনিয়ন্ত্রিত চিনি কেনার ওপর কোপ পড়েছে। যেমন সুইগি ইনস্টামার্টে একজন ক্রেতা সর্বোচ্চ দুটি এক কেজির প্যাকেট অর্ডার করতে পারছেন। অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি চিনি ঝুড়িতে যোগ করা যাচ্ছে না। একই অবস্থা খুচরো বাজারেও। ‘ডি-মার্ট’ কিংবা ‘রিলায়েন্স’-এর মতো প্রথম সারির সুপারমার্কেটগুলিতেও পরিবার পিছু চিনি বিক্রির পরিমাণ ২ থেকে ৩ কেজির মধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

    হঠাৎ এই কৃচ্ছ্রসাধন কেন? মূল কারণ হল উৎসবের ঠিক মুখে দামের নিয়ন্ত্রণহীন বৃদ্ধি এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের মজুতদারি আটকানো। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতিমধ্যেই ময়দানে নেমেছে কেন্দ্রীয় সরকার। বাজারে যোগান স্বাভাবিক রাখতে শুল্কমুক্ত অপরিশোধিত চিনি আমদানির নিয়মে আনা হয়েছে ঢালাও শিথিলতা। ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ১০ লক্ষ টন অপরিশোধিত চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি মিলেছে। নতুন নিয়মে আমদানি করা এই চিনি প্রক্রিয়াকরণ ও বিক্রির জন্য মিল মালিকদের দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত দুই মাসের সময়সীমা।

    সরকারের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হল খুচরো বাজারে দ্রুত পর্যাপ্ত চিনির জোগান দেওয়া, যাতে কৃত্রিম সংকট দূর হয়। কিন্তু বিশ্ববাজার থেকে চিনি এনে, তা শোধন করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কিছুটা সময় তো লাগবেই। আর সেই অন্তর্বর্তী সময়ের সুযোগ যাতে কেউ না নিতে পারে, তাই খুচরো বিক্র্রেতারা নিজেদের স্তরে এই রশনিং বা পরিমাণ নির্ধারণ পদ্ধতি চালু করেছেন। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের নিত্যদিনের তরকারি বা চায়ের ব্যবহারে হয়তো এর প্রভাব তেমন পড়ছে না। তবে উৎসবের কেনাকাটা বা বড় পরিবারের ক্ষেত্রে এই কড়াকড়ি বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পকেটে কতটা স্বস্তি ফেরায়, এখন সেটাই দেখার।
  • Link to this news (প্রতিদিন)