• প্রধান বিচারপতিকে আমন্ত্রণ করা নিয়ে বিতর্ক, শেষ পর্যন্ত বাতিল বেঙ্গালুরুর NLSIU-এর সমাবর্তন
    এই সময় | ২৭ আগস্ট ২০২৬
  • ভারতের অন্যতম সেরা আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বেঙ্গালুরুর ন্যাশনাল ল স্কুল অব ইন্ডিয়া ইউনিভার্সিটি (NLSIU)-র ২০২৬ সালের সমাবর্তন অনুষ্ঠান বাতিল হলো। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৪তম বার্ষিক সমাবর্তন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার, ২৭ অগস্ট, একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ‘অনিবার্য পরিস্থিতির’ কারণে এ বারের সমাবর্তন অনুষ্ঠান করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে পড়ুয়া ও প্রাক্তনীদের আপত্তি এবং সাম্প্রতিক বিতর্কের ভূমিকা রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

    NLSIU-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের স্নাতক পড়ুয়াদের আনুষ্ঠানিক সমাবর্তন অনুষ্ঠান ছাড়াই ডিগ্রি দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের পরে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

    পড়ুয়ারা চাইলে তাঁদের ডিগ্রি সার্টিফিকেট কুরিয়ারের মাধ্যমে পাবেন অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থেকে সরাসরি সংগ্রহ করতে পারবেন। কী ভাবে সার্টিফিকেট সংগ্রহ বা পাঠানো হবে, সেই বিষয়ে পরে পৃথক ভাবে নির্দেশিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়।

    সমাবর্তনে ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI) সূর্য কান্ত এবং বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (BCI)-এর চেয়ারম্যান মনন কুমার মিশ্রের উপস্থিতি নিয়ে NLSIU-এর পড়ুয়া ও প্রাক্তনীদের একাংশ আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের আপত্তির কারণ ছিল সুপ্রিম কোর্টে একটি মামলার জরুরি শুনানি বা তালিকাভুক্তি নিয়ে অসন্তোষ এবং ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর মন্তরে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশের পদক্ষেপ।

    এই পরিস্থিতিতে NALSAR-এর ২০২৬ সালের স্নাতক ব্যাচের এনরোলমেন্ট সাময়িক ভাবে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল BCI। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে পড়ুয়া ও শিক্ষক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল।

    NLSIU-এর পড়ুয়া ও প্রাক্তনীদের একাংশ BCI-এর ওই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের প্রতিবাদ বা মত প্রকাশের অধিকারকে কোনও ভাবেই দমন করা উচিত নয়।

    NLSIU-এর ক্ষেত্রে ৭০০-র বেশি পড়ুয়া ও প্রাক্তনী CJI এবং BCI চেয়ারম্যানের সমাবর্তনে অংশগ্রহণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁরা BCI-এর কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবিও তুলেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, পড়ুয়া ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা একটি ‘উইচ হান্ট’-এর মতো পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। এই প্রতিবাদে ১৬৫ জন স্নাতক পড়ুয়া, ৪০৯ জন বর্তমান পড়ুয়া এবং ১২৮ জন প্রাক্তনী সই করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

    বিতর্কের মধ্যেই CJI সূর্য কান্ত NLSIU-এর পড়ুয়াদের সঙ্গে প্রায় ৯০ মিনিট কথা বলেছিলেন। ছাত্রছাত্রীদের উদ্বেগ ও আপত্তির বিষয়গুলি বোঝার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু এর পরেও সমাবর্তনে তাঁর সম্ভাব্য উপস্থিতি ঘিরে বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। শেষ পর্যন্ত ১২ সেপ্টেম্বরের নির্ধারিত অনুষ্ঠানই বাতিল করে দিল বিশ্ববিদ্যালয়।

    এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—NLSIU-এর সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সমাবর্তন বাতিলের কারণ হিসেবে CJI বা BCI-কে ঘিরে কোনও বিতর্কের কথা সরাসরি বলা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শুধু ‘unavoidable circumstances’ বা ‘অনিবার্য পরিস্থিতি’র কথা জানিয়েছেন।

  • Link to this news (এই সময়)