দাম বাড়ছে হু হু করে, এবার চিনি কেনার উপরে বিধিনিষেধ?
বর্তমান | ২৭ আগস্ট ২০২৬
নয়াদিল্লি, ২৭ আগস্ট: উৎসবের মরসুম এখনও শুরু হয়নি। তার আগেই দামের ঠেলায় চিনি কিনতে গিয়ে পকেটে চাপ মধ্যবিত্তের। এর মধ্যে নতুন সমস্যা হাজির। কারণ বেশি টাকা দিয়েও আপনি চাইলেই হয়তো আর ইচ্ছেমতো চিনি কিনতে পারবেন না। বেঁধে দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ পরিমাণ। অনলাইন এবং অনলাইন, সব জায়গায় চালু হয়েছে এই নিয়ম। উৎসবের আগে থেকেই বহু ভারতীয় পরিবার বেশি করে চিনি কেনা শুরু করেন। নতুন এই ব্যবস্থায় সমস্যায় পড়েছে তারা।
খবরে প্রকাশ, কিছু কুইক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম বিভিন্ন পণ্যের পরিমাণের উপরে উচ্চসীমা বেঁধে দিয়েছে। তার মধ্যে আছে চিনি। রাজধানী সহ একাধিক শহরে ক্রেতাকে একসঙ্গে ৫০০ গ্রামের ২টি বেশি চিনির প্যাকেট বিক্রি করছে না তারা। প্রায় একই চিত্র সমস্ত প্ল্যাটফর্ম।
শুধু অনলাইন নয়, অফলাইনেও চিনি বিক্রিতে এই ধরনের ঘটনা দেখা যাচ্ছে। জানা গিয়েছে, দেশের দু’টি প্রথম সারির রিটেল চেইনের একাধিক স্টোর থেকে একসঙ্গে দু’-তিন কিলোর বেশি কিনতে পারছেন না ক্রেতারা। উৎসবের প্রাক্কালে চিনির চাহিদা বাড়ে। সেখানে এবার বিক্রির উপরে কড়াকড়ি। এমন দৃশ্য সাম্প্রতিক অতীতে দেখা যায়নি বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
কেন চিনির দাম বাড়ছে?
সরকারি তথ্য বলছে, গত দু’মাসে খুচরো বাজারে চিনির দাম বেড়েছে ১৮ শতাংশেরও বেশি। এবং এখনও তা ঊর্ধ্বমুখী। প্রশ্ন উঠছে, পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর টার্গেট পূরণ করতে গিয়েই কি এই হাল? আখ থেকে চিনি তৈরিতে জোর না দিয়ে ইথানলে ফোকাস করাতেই এমন পরিস্থিতি বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও সরকার তা মানতে নারাজ।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারি পদক্ষেপ
মূল্যবৃদ্ধি রুখতে চিনি মজুতের পরিমাণ বেধে দিয়েছে কেন্দ্র। বলা হয়েছে, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০ নভেম্বর, আগামী তিন মাস চিনির মজুতদারি চলবে না। কনফেকশনারি ব্যবসায়ী, সফট ড্রিঙ্কস প্রস্তুতকারক, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প, মিষ্টান্ন বিক্রেতাদের মতো যাদের মাসে ১০ মেট্রিক টন চিনির প্রয়োজন হয়, তারা ১৫ দিনের বেশি সময়ের জন্য চিনি মজুত রাখতে পারবে না। এরই সঙ্গে অন্যদিকে ব্রাজিল, থাইল্যান্ড থেকে আমদানি সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদি সরকার। ঠিক হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ১০ লক্ষ মেট্রিক টন আমদানি করা হবে। আমদানি হবে নিঃশুল্ক।