• মুখ্যমন্ত্রী ৩৩ শিল্পপতিকে জমি দেবেন, ‘বিজ়নেস ফ্রেন্ডলি’ বার্তা
    এই সময় | ২৭ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: খুব শিগগিরই ‘বিজনেস কনক্লেভ’ করে কারখানা গড়ার জন্য ৩৩ জন শি‍ল্পপতিকে জমি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কারণ, ভাতা নির্ভরতার বদলে আত্মনির্ভরশীল পশ্চিমবঙ্গ গড়াই তাঁর লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য পূরণে রাজ্যে ‘বিজনেস ফ্রেন্ডলি’ পরিবেশ তৈরি করার বার্তা বারবার দিচ্ছেন বিজেপি নেতৃত্বও। মঙ্গলবার একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠান থেকে শুভেন্দু বর্ণনা করেন নিকট ভবিষ্যতে বাং‍লায় সম্ভাব্য বিনিয়োগের ফিরিস্তি।

    গত ১৫ বছর পশ্চিমবঙ্গে উ‍ল্লেখযোগ্য কোনও বিনিয়োগ আসেনি বলে বিজেপির অভিযোগ। ফলে রাজ্যে নতুন কারখানা তৈরি করে বিজেপি বোঝাতে চাইছে তারা তৃণমূলের থেকে কতটা আলাদা। বিনিয়োগকারীদের বার্তা দিতে নতুন শিল্প এবং জমি নীতি তৈরির ঘোষণাও করেছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার। শমীক ভট্টাচার্যরা দলীয় মঞ্চ থেকে বারবার বলছেন, তোলাবাজি, কাটমানি খাওয়া কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। দলের কেউ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করলে তাঁকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দেওয়া হবে।

    এই আবহে মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেখতে থাকুন বিনিয়োগ কেমন হয়। আগামী পরশু দিন নিউটাউনের সিলিকন ভ্যালিতে এল অ্যান্ড টির ডেটা সেন্টারের উদ্বোধন হবে।’ তাঁর দাবি, ‘আগামী ১৪ অক্টোবর পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় গোষ্ঠীর ছ’হাজার কোটি টাকার নতুন প্রকল্প আসছে হলদিয়ায়।’ শুভেন্দুর সংযোজন, ‘কয়েকদিনের মধ্যেই ‘বিজনেস ক‍নক্লেভ’ হবে। তিনদিন ধরে পঞ্চাশ কোটি টাকা খরচ করে নয়, দু’ঘণ্টার বেশি অনুষ্ঠান চলবে না।’ সেই মঞ্চ থেকে ৩৩টি শিল্প প্রতিষ্ঠানকে জমি দেওয়া হবে বলেও মুখ্যমন্ত্রী এ দিন ঘোষণা করেছেন।

    কোনও রাজ্য কতটা শিল্পবান্ধব তা মাপার অন্যতম সূচক হলো সেই রাজ্যের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে যোগাযোগ ব্যবস্থাতেও যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে সেই দাবিও এ দিন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘১৭ মাস ধরে চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ আটকে ছিল জমি জটের কারণে। মাত্র ১৭ দিনে সেই জট কাটিয়ে দিয়েছি। সেখানে ৬৫৫ মিটার দীর্ঘ মেট্রোরেলের লাইন তৈরি করা যাচ্ছিল না জমি জটের জন্য। বরাহনগর–ব্যারাকপুরে মেট্রোর কাজ আটকে ছিল। সেই জটও কাটিয়ে দিয়েছি। বিজনেস ফ্রেন্ডলি পরিবেশ তৈরি করা এই সরকারের অঙ্গীকার।’

    যদিও মুখ্যমন্ত্রী আদৌ রাজ্যে বিনিয়োগ টানতে পারেন কি না, তার অপেক্ষা করতে চায় না বিরোধী দলগুলি। তারা এখনই শুভেন্দুকে জনতার দরবারে পরীক্ষায় বসাতে চান। বিরোধী দলগুলির একাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় সে কথা লিখতেও শুরু করেছে। কিন্তু শুভেন্দু এ দিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের আগে মানুষের পরীক্ষায় বসার কোনও ইচ্ছে তাঁর নেই। রাজ্যের মানুষের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেন, ‘আপনারা ভরসা রাখুন। দেখতে থাকুন। মাত্র ১১০ দিনে আমি পরীক্ষায় বসতে রাজি নই।’ শুভেন্দুর ঘোষণা, ‘এক বছর পরে পরীক্ষায় বসাবেন। যা যা প্রশ্ন করার করবেন। উত্তর দেবো। নম্বর আপনারা দেবেন। নিজের নম্বর িনজে দেবো না। আগের মুখ্যমন্ত্রী বলতেন, আমাকে শেখাতে এসো না। এখনকার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কিছু জানি। অনেক কিছু জানি না।’

    শুধু শিল্পবান্ধব বাংলা গড়াই নয়, নারী সুরক্ষার প্রশ্নেও কোনও আপোস করতে চান না শুভেন্দু। এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘মহিলাদের সুরক্ষা দিতেই হবে। প্রয়োজন হলে বারুইপুর বারেবারে হবে। মহি‍লাদের উপর আঙুল দেখানো বরদাস্ত করব না। যারা করবে, তাদের ভুগতে হবে।’ শুভেন্দু বিলক্ষণ জা‍নেন, রাজ্যে আইন–শৃঙ্খলা ‍পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিল্পপতিরা বাংলায় বিনিয়োগ করতে ভরসা পাবেন না। তাই শিল্পপতিদের জমি দেওয়ার বার্তার পাশাপাশি শুভেন্দু রাজ্যের আইন–শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির উপরেও ফোকাস করেছেন।
  • Link to this news (এই সময়)