• চিনিতে স্বস্তি! ঝড়ের বেগে কমল দাম, কলকাতায় কত?
    আজকাল | ২৭ আগস্ট ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে চিনির দাম বৃদ্ধির পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একের পর এক পদক্ষেপ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি পদক্ষেপের ফলে ইতিমধ্যেই বাজারে চিনির জোগান বাড়তে শুরু করেছে এবং পাইকারি ও মিলগেট পর্যায়ে দামও বেশ কিছুটা কমেছে। এর ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই খুচরো বাজারেও চিনির দামে স্বস্তি মিলতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

    সরকারের বক্তব্য, দেশে ঘরোয়া চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত চিনির মজুত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দাম বৃদ্ধির পিছনে আবহাওয়াজনিত সমস্যা, বাজারে অপ্রয়োজনীয় জল্পনা এবং বেআইনি মজুতকে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার দ্রুত একাধিক ব্যবস্থা নেয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল পাইকারি ক্রেতা, ডিলার-সহ বড় মজুতকারীদের জন্য স্টক রাখার সীমা নির্ধারণ।

    সূত্রের খবর, এই পদক্ষেপের ফলে বড় কিছু বাল্ক ক্রেতার হাতে আটকে থাকা চিনির মজুত বাজারে ফিরে এসেছে। ফলে সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং দামও কমতে শুরু করেছে। কিছুদিন আগে দক্ষিণ মহারাষ্ট্রে মিলগেট পর্যায়ে চিনির দাম প্রতি কেজি ৬২ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে মহারাষ্ট্রে সেই দাম নেমে এসেছে প্রায় ৫১-৫২ টাকা কেজিতে। কলকাতার পাইকারি বাজারেও দাম কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩ টাকা কেজি। উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য কলকাতা গুরুত্বপূর্ণ চিনি সরবরাহ কেন্দ্র হওয়ায় এই দাম কমার প্রভাব সংশ্লিষ্ট বাজারগুলিতেও পড়তে পারে।

    সরকারি সূত্রের মতে, পাইকারি বাজারে দাম কমার প্রভাব আগামী ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে খুচরো বাজারেও দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ, সাধারণ পরিবারের জন্য চিনির দামে দ্রুত স্বস্তি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এদিকে বেআইনি মজুত এবং চিনির স্টক প্রকাশ না করার অভিযোগে দেশজুড়ে অভিযানও জারি রয়েছে। সরকারি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে দেশের ১০০০টিরও বেশি কেন্দ্রে তল্লাশি বা পরিদর্শন করা হয়েছে। একইসঙ্গে যেসব চিনি কল এখনও আগস্ট মাসের জন্য বরাদ্দ করা কোটা বিক্রি করেনি, তাদের সেই মজুত দ্রুত বাজারে ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে স্বল্পমেয়াদে বাজারে চিনির জোগান আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

    গত ২১ আগস্ট সরকার ১০ লক্ষ টন বা ১ মিলিয়ন টন চিনি শুল্কমুক্ত আমদানির অনুমতি দিয়েছে। বাণিজ্যিক সূত্রের খবর, রফতানিকারক দেশগুলির বন্দর থেকে ইতিমধ্যেই ৭০-৮০ হাজার টন চিনির তিন থেকে চারটি চালান ভারতের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। এগুলি সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষের মধ্যে ভারতের বন্দরে পৌঁছতে পারে। এরপর দ্রুত পরিশোধন করে সেই চিনি বাজারে সরবরাহ করা হবে।

    এছাড়াও ভারতের বন্দরে থাকা আরও প্রায় ৩-৪ লক্ষ টন চিনি পরিশোধন করে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। আগস্টের অবিক্রীত কোটা, বিদেশ থেকে আসা নতুন চালান এবং বন্দরে থাকা চিনির অতিরিক্ত সরবরাহ—এই তিনের সম্মিলিত প্রভাবে বাজারে জোগান আরও বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    উৎসবের মরশুম সামনে থাকায় চিনির পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতেই সরকার পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। লক্ষ্য একটাই—উৎসবের সময়ে চাহিদা বাড়লেও যাতে বাজারে চিনির ঘাটতি না হয় এবং সাধারণ মানুষকে অস্বাভাবিক দামে চিনি কিনতে না হয়।
  • Link to this news (আজকাল)