দুর্গাপুজো আসতে ২ মাসও বাকি নেই। প্যান্ডেল হপিংয়ের জন্য কলকাতা লাগোয়া শহরতলি ও জেলার বাসিন্দাদের লাইফলাইন লোকাল ট্রেন। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে আগেভাগেই পদক্ষেপ করছে শিয়ালদহ ডিভিশন। স্টেশন থেকে টিকিট কাউন্টার, শৌচাগার থেকে সাবওয়ের পরিকাঠামো সবটাই ঢেলে সাজা হচ্ছে। রেল সূত্রের খবর, গত বছর দুর্গাপুজোয় শিয়ালদহ স্টেশনে এক দিনে প্রায় ২১ লক্ষ যাত্রীর পা পড়েছিল। দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি নিয়ে শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনার নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে।
শিয়ালদহ, বালিগঞ্জ ও দমদমে আধুনিক শৌচাগার:
পুজোর সময়ে স্টেশনগুলিতে শৌচাগার নিয়ে সমস্যা হয়। তার জন্যই পুজোর ভিড়ের কথা মাথায় রেখে শিয়ালদহ, বালিগঞ্জ এবং দমদম স্টেশনে আধুনিক শৌচাগার কমপ্লেক্স তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
দমদম স্টেশনে যাত্রীদের চলাচলের জায়গা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের দিকে থাকা বুকিং কাউন্টারগুলি সরিয়ে নিয়ে ওই এলাকায় আরও বড় জায়গা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
পুজোর সময়ে টিকিটের জন্য যাতে দীর্ঘ লাইন না পড়ে, তার জন্য শিয়ালদহ ও কলকাতা স্টেশনের সমস্ত টিকিট কাউন্টার ২৪ ঘণ্টা চালু রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ভিড়ের সময়ে অতিরিক্ত বুকিং ক্লার্কও মোতায়েন করার ভাবনাচিন্তা চলছে। পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টা অটোমেটিক টিকিট ভেন্ডিং মেশিন পরিষেবাও থাকবে। যাত্রীদের সাহায্য করার জন্য সেখানে কর্মীও থাকবেন।
এছাড়া শিয়ালদহে মেল ও এক্সপ্রেস যাত্রীদের জন্য আলাদা এন্ট্রি। ভিড় নিয়ন্ত্রণে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা কর্মী, CCTV মোতায়েন করার মতো পরিকল্পনাও রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতির কথা ভেবে প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
ব্যারাকপুরে নতুন টিকিট কাউন্টার:
ব্যারাকপুর স্টেশনেও যাত্রী পরিষেবায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। রানাঘাটের দিকের ফুট ওভার ব্রিজের কাছে নতুন টিকিট বুকিং কাউন্টার তৈরি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ফুট ওভার ব্রিজের কাজও প্রায় শেষের দিকে। দ্রুত সেটি চালু করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে মূল ফুট ওভার ব্রিজের উপর চাপ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিধাননগর সাবওয়ে মেরামতি:
পুজোর ভিড়ের আগে বিধাননগর সাবওয়ের উন্নয়নের কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে রেল। এছাড়া, রেলের লেভেল ক্রসিংয়ের গেটগুলির কাছে অ্যাপ্রোচ রোডের উন্নতি করা হচ্ছে।