• নেপাল ভ্রমণে বাস, ‘ঠাকুর, ঠাকুর করে ফিরুক সকলে’— উদ্বেগে আরামবাগের দুই চালকের পরিবার
    এই সময় | ২৮ আগস্ট ২০২৬
  • সুজয় মুখোপাধ্যায়

    ২৪ অগস্ট যাত্রা শুরু, গন্তব্য নেপাল। যে দেশের ছবি দেখলে এখন ভয়ে শিউরে উঠছেন সকলে, সেখানেই ৬৫ জন পর্যটকের যাতায়াতের দায়িত্ব রয়েছে তাঁদের হাতেই—সুরজিৎ কুণ্ডু ও মন্টু বটব্যাল। একটি লাক্সারি বাসে হুগলির আরামবাগ থেকে নেপাল ভ্রমণে গিয়েছেন পর্যটকরা। সেই বাসের ড্রাইভার ও তাঁর সহযোগী সুরজিৎ, মন্টু। ‘ঠাকুর, ঠাকুর করে ফিরে আসুক সকলে’ চাইছেন পর্যটকদের পরিবারের সদস্যরা। বিনিদ্র রাত কাটছে সুরজিৎ ও মন্টুর বাড়ির লোকজনও।

    সোমবার আরামবাগ থেকে ৬৫ জন পর্যটক নিয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন চালক সুরজিৎ কুণ্ডু। এর আগে তিনি ভুটান গেলেও এই প্রথম তাঁর নেপাল সফর। সুরজিতের সঙ্গে সহযোগী হিসেবে গিয়েছেন আরামবাগ নরেন্দ্রপল্লির বাসিন্দা মন্টু বটব্যাল।

    দু’জনেরই ট্যুরিস্ট বাস করে পর্যটকদের ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে দীর্ঘদিনের। সুরজিৎ প্রায় ৯-১০ বছর ধরে গাড়ি চালান। মন্টুর গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে ৮ থেকে ৯ বছরের। তবে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সামনে কোনও অভিজ্ঞতাই যথেষ্ট নয়। বুধবার থেকেই বাস ড্রাইভার, পর্যটকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না। তখন থেকেই দুশ্চিন্তা বাড়তে থেকে। তবে স্বস্তির খবর, শেষমেশ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা গিয়েছে। সকলেই নিরাপদে আছেন। তবে যত দ্রুত সম্ভব ফিরে আসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

    বুধবার থেকে যে বিপর্যয় ছবি গিয়েছে, তার পর থেকে দুশ্চিন্তায় কার্যত নাওয়া-খাওয়া ভুলেছেন পরিবারের সদস্যরা। সুরজিতের স্ত্রী মৌমিতা বলেন, ‘আজ স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে। দুপুর আড়াইটা-তিনটে নাগাদও শেষবার কথা হয়। ৯-১০ বছর ধরে বড় গাড়ি চালাচ্ছেন সুরজিৎ। আগে ছোট গাড়ি চালাতেন। উত্তর ভারত, পুরী, দিঘা, আজমির-সহ বিভিন্ন জায়গায় পর্যটক নিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু এমন পরিস্থিতি আগে কখনও হয়নি।’

    অন্য দিকে, বাসচালক সুরজিৎ-এর সহযোগী মন্টুর মা সুলতা বটব্যাল বলেন, ‘ছেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পেরে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আজ সকালে ছেলের সঙ্গে কথা হয়েছে। ও বলেছে ভালো আছে। এতগুলো মানুষের জীবন ওর হাতে রয়েছে ভাবলেই চিন্তা হয়। সবাই সুস্থ হয়ে ফিরুক।’

    হোয়াটসঅ্যাপ কলে মন্টু বটব্যাল এই সময় অনলাইনকে বলেন, ‘আমরা এখানে ভালো আছি। সকলেই সুস্থ আছেন। রসুই থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রয়েছি। পোখরা পর্যন্ত ছোট গাড়ি যাচ্ছে, কিন্তু বাস যেতে দিচ্ছে না। গতকাল ইন্টারন্যাশনাল চিতোয়ান পার্কে ছিলাম। এখন গাড়ি নিয়ে নারায়ণগড়ে আছি। পর্যটকরা ছোট গাড়িতে বিভিন্ন জায়গা ঘুরছে। দেওঘর হয়ে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে।’

    হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরী জানিয়েছেন, আরামবাগ, চন্দনগর-সহ জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা নেপালে গিয়েছেন। প্রশাসনের সব দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। স্টেট লেভেলেও হেল্পলাইন চালু করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি হেল্পলাইন নম্বর খোলা হয়েছে। নম্বরটি হলো -7003190507।

  • Link to this news (এই সময়)