তাঁকে স্থিতধী অবস্থাতেই দেখেছে সকলে। সেই সদগুরুকেই দেখা গেল কান্নায় ভেঙে পড়তে। এমনকী তাঁর হাত-পাও কাঁপছিল। নেপালের বিপর্যয়ে (Nepal Flash Flood Disaster) তাঁর ঈশা ফাউন্ডেশনের প্রায় ৮০ পুণ্যার্থীর নিখোঁজ হওয়ার কথা বলার সময় কার্যতই অসহায় অবস্থায় দেখাচ্ছিল তাঁকে।
ঈশা ফাউন্ডেশনের ৭৪৩ জন পুণ্যার্থী এখনও তিব্বতে রয়েছেন। নেপালেও রয়েছেন ১৪৮ জন। কিন্তু অভিবাসন দপ্তরে থাকা ৭৭ জনেরই খোঁজ নেই। বিপর্যয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে কার্যতই ভেঙে পড়েন সদগুরু। বলেন, ”ধ্বংসের চেহারাটা দেখুন। কী ভয়ংকর! কী অস্বাভাবিক ও বীভৎস…” পরে তিনি জানান, বৃহস্পতিবার সকালেই তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যেতে চান। কিন্তু বিপর্যয়ের পরিস্থিতিটা এতই ভয়াবহ যে যেতে পারার সম্ভাবনা কম। সদগুরু বলছেন, ”এখন পর্যন্ত আমরা কোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাইনি… তবে ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা দেখে পরিস্থিতি ভালো মনে হচ্ছে না।”
উল্লেখ্য, এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত চিনের তিব্বতে। সেখান থেকে বন্যার জল প্রবেশ করে নেপালের রসুয়া জেলায়। কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১২৫ কিমি দূরে অবস্থিত এই জেলার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ভোটেকোশী নদী। বুধবার সকাল থেকেই আচমকা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। এরপরই চিন সীমান্তবর্তী ওই জেলায় ওই হড়পা বান নামে। আকস্মিক বন্যার জেরে রীতিমতো ধ্বংসযজ্ঞ চলে রসুয়া জেলায়। ভোটেকোশী নদীর জলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চিন সীমান্তবর্তী তিমুর ও স্যাফ্রুবেসি এলাকা। হু হু করে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। মানস সরোবরের পথে আটকে রয়েছেন শতাধিক কৈলাসযাত্রী। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে বহু বাড়ি-ঘর, সেতু, যানবাহন। গ্রামের পর গ্রাম চলে জলের নিচে।
এহেন পরিস্থিতিতে সদগুরুকে দেখা গেল ভেঙে পড়তে। তবে তিনি জানিয়েছেন, “আমরা ভারত, চিন ও মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অনুমতি চাইছি— দেখা যাক ওঁরা আমাকে ও আমার সঙ্গে থাকা দলটিকে সেখানে যাওয়ার এবং পরিস্থিতি বুঝে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার অনুমতি দেয় কি না।” সদগুরু তাঁর বক্তব্য শেষ করার পরও ইশা ক্যাম্পে এক বিষাদময় পরিবেশ বিরাজ করছিল। পটভূমিতে ভেসে আসা কান্নার রোল যেন থামার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছিল না।