• নিউ মার্কেটের ‘অভিশপ্ত’ হোটেল ভবনেই ৪০ ট্রেড লাইসেন্স! নজরে তৃণমূল জমানার দুর্নীতি
    প্রতিদিন | ২৮ আগস্ট ২০২৬
  • নিউ মার্কেটের মির্জা গালিফ স্ট্রিটের অভিশপ্ত হোটেলে পুড়ে মৃত্যু ৯ জনের। সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের তদন্তে নামতেই সামনে এল কলকাতা পুরসভার একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা গিয়েছে, যে ভবনটিতে আগুন লেগেছিল, সেই বিল্ডিংয়েই মোট ৪০টি ট্রেড লাইসেন্সের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। পুরসভার তথ্য অনুযায়ী, তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের আমলে অধিকাংশ লাইসেন্সই দেওয়া হয়েছিল। একটি বিল্ডিংয়ে এতগুলি ব্যবসা চালানোর পরিকাঠামো আদৌ আছে কি না, তা যাচাই না করেই লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।

    নিউ মার্কেটের ওই হোটেলের তথ্য সামনে আসতেই তৃণমূল জমানায় পুরসভার নীতি প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রসঙ্গত, ফিরহাদ হাকিম কলকাতা পুরসভার মেয়র থাকাকালীন ২০২১ সালে থেকে ট্রেড লাইসেন্সের জন্য অনলাইন প্রক্রিয়া চালু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীরা অনলাইনে হলফনামা জমা দিলেই নতুন ট্রেড লাইনেন্স পাওয়া যায়। লাইসেন্স রিনিউ করার ক্ষেত্রেও রয়েছে একই ব্যবস্থা, যদিও তার আগে যাবতীয় বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে আগে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। কোনও ট্রেড লাইসেন্সর আবেদন জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের লাইসেন্স বিভাগ সরেজমিনে পরিদর্শনে যেত। আবেদনের তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হত, ব্যবসার প্রকৃতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো আছে কি না, তাও খতিয়ে তবেই ছাড়পত্র মিলত।

    তবে তৃণমূল জমানায় এই পদ্ধতি অতীত হয়ে যায়। তৎকালীন পুরবোর্ডের তরফে দাবি করা হয়, লাইসেন্স ইন্সপেকশনে গিয়ে তোলাবাজি ও টাকা আদায়ের মতো অভিযোগ উঠছিল। এরপরই অনলাইন সেলফ-ডিক্লারেশন ব্যবস্থা চালু করা হয়। তবে শহরে অগ্নিকাণ্ডের পর ৪০ ট্রেড লাইসেন্সের তথ্য সামনে আসায় প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি দুর্নীতির অভিযোগ এড়াতে গিয়ে মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছে এতদিন? যদিও অভ্যন্তরীণ বিষয়টি নিয়ে মুখে খুলতে চায়নি কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা।
  • Link to this news (প্রতিদিন)