ফের রক্ত ঝরল মণিপুরে।
এ বার গুলিতে নিহত হলেন নাগা সম্প্রদায়ের পাঁচ জন। বৃহস্পতিবার কাংপোকপি জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতীদের এই হামলায় নিহতদের মধ্যে আছেন একটি স্কুলের প্রধানশিক্ষক-ও। তবে, নাগা সম্প্রদায়ের নেতাদের দাবি, এই হামলা চালিয়েছে কুকি জঙ্গিরা।
এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে কড়া বার্তা দিয়েছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। আগেই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল মণিপুরের সরকার। এ বার অবৈধ অস্ত্রধারী ও ক্যাম্পের বাইরে অস্ত্রসহ পাওয়া এসওও (SoO) ক্যাডারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশ দেওয়াও হয়েছে।
এর পরেই কাংপোকপি জেলায়, নাগা অধ্যুষিত একটি গ্রামে আক্রান্ত হয়েছেন চিকিৎসক দলের সদস্যরা বলে অভিযোগ। সেখানে তিনটি অ্যাম্বুল্যান্সে ভাঙচুর চালানো হয় বলেও অভিযোগ।
এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করে কড়া বার্তা দিয়েছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী ইউমনাম খেমচাঁদ সিং। আগেই অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল মণিপুরের সরকার। এ বার অবৈধ অস্ত্রধারী ও ক্যাম্পের বাইরে অস্ত্রসহ পাওয়া এসওও (SoO) ক্যাডারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে নির্দেশ দেওয়াও হয়েছে।
রাস্তায় সশস্ত্র হামলা
মণিপুরের প্রশাসন এবং পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার এই সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে কাংপোকপি জেলায় ইম্ফল-তামেংলং (Imphal-Tamenglong) সড়কে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় চার জনের। গুরুতর আহত আরও একজন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যান। নিহতরা সকলেই নাগা সম্প্রদায়ের। মৃতদের মধ্যে আছেন একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষকও।
হামলার নিন্দা
কারা এই হামলা চালায় তা নিয়ে পুলিশের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি। তবে, নাগাদের সংগঠনের দাবি, এই হামলা চালিয়েছিল সশস্ত্র কুকি জঙ্গিরা। মাকুই আশং এবং থানাম্বা নাগার মধ্যে যাতায়াতকারী সাধারণ নাগা নাগরিকদের লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়। এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বিশিষ্ট নাগা নেতা তথা মণিপুরের উপ-মুখ্যমন্ত্রী লোসি দিকো (Losii Dikho)। এই ঘটনাকে বর্বরোচিত ও কাণ্ডজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেছেন তিনি। এই হামলা সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর একটি আঘাত বলেও উল্লেখ করেন মণিপুরের উপ-মুখ্যমন্ত্রী।
কড়া পদক্ষেপ করার বার্তা
২০২৩ সাল থেকে মেইতেই এবং কুকি উপজাতির বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে অশান্ত মণিপুর। সেখানে স্বাভাবিক অবস্থা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মণিপুরের সরকার। তাদের দাবি, এই ধরনের হামলা সেই চেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে। সেখানে সব পক্ষকে হিংসার পথ ছেড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য কাজে যোগ দেওয়ার আবেদন করেছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী। তবে যারা সুপরিকল্পিতভাবে এই ধরনের হামলা চালাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে সেখানে যারা বেআইনি অস্ত্র রেখেছেন তাদের তা জমা করে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। বৃহস্পতিবারই তা জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে। আর এ দিনই পুলিশ এবং প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী। যারা তাদের বেআইনি অস্ত্র জমা দেবে না তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এরই সঙ্গে হামলাকারীদের খুঁজে বের করে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী বলে জানা গিয়েছে।