লিজ় নেওয়া দিঘি থেকে নির্বিচারে জল তুলে নেওয়ার অভিযোগে কোটি কোটি টাকার মাছ নষ্ট। বারবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েও মেলেনি সুরাহা। শেষমেশ ক্ষতিপূরণের দাবিতে আইনি লড়াইয়ে নামেন মৎস্যচাষীরা। তাঁদের মামলায় বড় ধাক্কা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের। প্রায় দু’কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ না মেটানোয় জেলা পরিষদের সম্পত্তি অধিগ্রহণের নির্দেশ দিল আদালত। সেই নির্দেশের কপি হাতে বৃহস্পতিবার জেলা পরিষদ ভবনে হাজির হলেন ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষীরা। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে প্রশাসনিক মহলে।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের অধীন ঐতিহ্যবাহী কালদিঘি প্রকাশ্য টেন্ডারে তিন বছরের জন্য লিজ নেয় স্থানীয় বৈদ্যনাথ মৎস্যচাষী স্বনির্ভর দল। নয় সদস্যের ওই দল লক্ষাধিক টাকা বিনিয়োগ করে মাছ চাষ শুরু করে। অভিযোগ, মাছ বড় হওয়ার মুখেই সেচের জন্য দিঘি থেকে ব্যাপক হারে জল তুলতে শুরু করে কৃষি, সেচ দপ্তর। ফলে জলস্তর নেমে গিয়ে মাছ চাষ কার্যত ধ্বংস হয়ে যায়।
স্বনির্ভর দলের সম্পাদক বাসুদেব হালদারের দাবি, বারবার জেলা পরিষদ ও জেলাশাসককে জানিয়েও কাজ হয়নি। ২০২৩-২৪ সালে পরিস্থিতি চরমে পৌঁছয়। জলস্তর দুই ফুটেরও নীচে নেমে যাওয়ায় হাজার হাজার মাছ মরতে শুরু করে। এরপর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তাঁরা। আদালতের হস্তক্ষেপে জেলাশাসকের উপস্থিতিতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, দিঘিতে অন্তত পাঁচ-ছ’ফুট জল রাখতে হবে। উদ্বৃত্ত জল থাকলেই সেচের কাজে তা নেওয়া যাবে। কিন্তু অভিযোগ, সেই সিদ্ধান্তও মানা হয়নি।
পরে মৎস্য দপ্তরের আধিকারিক সরেজমিনে পরিদর্শন করে জানান, দিঘিতে জল রয়েছে দু’ফুটেরও কম। আর এরপরেই ক্ষতিপূরণের দাবিতে ফের আদালতের দ্বারস্থ হন চাষীরা। হাইকোর্ট নিযুক্ত নিরপেক্ষ আর্বিট্রেটর শুনানি শেষে প্রায় ১ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেন। সুদ-সহ সেই অঙ্ক বেড়ে প্রায় ১ কোটি ৯৯ লক্ষ টাকা হয়েছে বলে দাবি মামলাকারীদের।
মামলাকারীদের আইনজীবী প্রসূন চৌধুরীর দাবি, টাকা না মেটানোয় আদালত জেলা পরিষদের আসবাবপত্র অধিগ্রহনের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের নেজারত বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে সম্পত্তির ছবি তুলে নির্দেশ কার্যকর করার কথাও বলা হয়েছে। শুক্রবার আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। নির্দেশ কার্যকর না হলে জেলা পরিষদের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার আবেদন করা হবে বলেও জানান তিনি। যদিও জেলা পরিষদের সহ-সভাপতি অম্বরিশ সরকার জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। কোনও বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়নি।