বেড়াতে ভালোবাসেন। এটাই তাঁর নেশা। এই নেশার টানেই নেপাল বেড়াতে গিয়েছিলেন চন্দননগরের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষিকা শিপ্রা রায় পাটারি। তবে হড়পা বানের পর থেকেই নিখোঁজ তিনি। কোনও মতেই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না বাড়ির লোকজন। এই নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে পরিবারে। তাঁরা চাইছেন, দ্রুত সুস্থ শরীরে বাড়িতে ফিরে আসুন শিপ্রা রায়।
হড়পা বান এবং ভুমিধসে বিপর্যস্ত নেপাল। বিপর্যয়ের সবচেয়ে ভয়াবহ ছবি দেখা গিয়েছে রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলায়। ভোটকোশি নদী এবং তার সঙ্গে যুক্ত নদীগুলিতে আচমকা জল ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত নেমে আসে। নদীর দুই তীরের বহু বাড়ি, বাজার, রাস্তা এবং সেতু কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। সেখানে বাড়ছে মৃত এবং নিখোঁজের সংখ্যা।
এই বিপর্যয় নামার ঠিক আগেই কলকাতার একটি ভ্রমণ সংস্থার সঙ্গে নেপাল গিয়েছিলেন সিঙ্গুর গোলাপ মোহিনী স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষিকা শিপ্রা রায় পাটারি। ইতিহাস পড়াতেন। মাস কয়েক আগেই অবসর নেন তিনি। তাঁর স্বামী রবীন পাটারিও একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক।
এক সঙ্গে যাওয়ার কথা ছিল চন্দননগর পুরসভার তিন নম্বর হরিদ্রাডাঙ্গা পূর্বপাড়া বাসিন্দা এই দম্পতির। তবে বয়সজনিত কারণে যেতে পারেননি রবীন পাটারি। ওই ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে, অন্য আরও কয়েকজনের সঙ্গে, গত ২১ অগস্ট নেপাল গিয়েছেন শিপ্রা। তাঁদের ফেরার কথা আগামী ৬ সেপ্টেম্বর।
শিপ্রা রায়ের ভাই অখিল রায় জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ পরিবারের সঙ্গে শেষ কথা হয় তাঁর দিদির। তাঁদের অনুমান, অনুমতির জন্য চিনা বর্ডারে গিয়েছিলেন শিপ্রা এবং অন্যরা। হড়পা বান নেমে আসার সময়ে বাসে করে ওই এলাকায় গিয়েছিলেন তাঁরা। অখিল রায় বলেন, ‘এর পর থেকেই আমরা আর কোনও খবর পাচ্ছি না। ওই ভ্রমণ সংস্থাও চেষ্টা করছে, খোঁজ নিচ্ছে। আমরা খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি।’
অখিল জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবারই ওই ভ্রমণ সংস্থার তরফে তাঁদের জানানো হয়েছে, ৩২ জনের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে তাঁর অবস্থা কেমন তা জানা নেই। অন্যদেরও কোনও খবর নেই। এর পর থেকেই দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে পরিবারের।
নেপালে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া রাজ্যের বাসিন্দাদের খোঁজ পাওয়ার জন্য সব রকমের চেষ্টা করছে রাজ্য সরকার বলে জানিয়েছেন চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ।