• ছাত্রদের যৌন হেনস্থায় ধৃত বহরমপুরের শিক্ষক
    এই সময় | ২৮ আগস্ট ২০২৬
  • বহরমপুর: প্রাইভেট টিউশন দেওয়ার আড়ালে একের পর এক ছাত্রকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে বহরমপুরের একটি নামী সরকারি স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে বহরমপুর থানার পুলিশ। ধৃত শিক্ষকের নাম পীযূষ রুদ্র। তিনি সরকারি স্কুলের ভৌতবিজ্ঞানের প্যারা-টিচার।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েক জন ছাত্রের পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পরেই তদন্ত শুরু হয়। বৃহস্পতিবার সকালে মোল্লাগেড়ের ধার এলাকার বাড়ি থেকে পীযূষকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, ধৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। আজ, শুক্রবার তাঁকে মুর্শিদাবাদ জেলা পকসো আদালতে হাজির করানো হবে।

    অভিভাবকদের অভিযোগ, ওই শিক্ষক নিজের বাড়িতে একটি ব্যাচে ছাত্রদের প্রাইভেট টিউশন দিতেন। বাকিদের বাইরে পাঠিয়ে কোনও কোনও ছাত্রকে একা রেখে তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করতেন তিনি। নবম শ্রেণির এক ছাত্রের মায়ের অভিযোগ, প্রায় দেড় মাস আগে ছেলেকে পীযূষের কাছে ভৌতবিজ্ঞান পড়তে ভর্তি করেছিলেন তিনি। কয়েক দিন পর থেকেই তাঁর ছেলের সঙ্গে ওই ধরনের আচরণ শুরু হয়! ওই অভিভাবকের দাবি, 'ছেলে ভয়ে প্রথমে কিছুই জানায়নি। পরে অন্য এক ছাত্রের মায়ের কাছ থেকে একই ধরনের অভিযোগের কথা জানতে পারি। ছেলেকে জিজ্ঞাসা করতে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে সব জানায়।'

    আর এক দশম শ্রেণির ছাত্রের মায়ের অভিযোগ, এইট থেকে তাঁর ছেলে ওই শিক্ষকের কাছে পড়ত। দশম শ্রেণিতে ওঠার পরে তাকে হেনস্থা করা শুরু হয় বলে তাঁর দাবি। প্রতিবাদ করলে, বাড়িতে জানালে ফল ভালো হবে না বলে ওই শিক্ষক হুমকি দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। ঘটনার পর থেকে ছেলে মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে বলেও তিনি জানান। অভিভাবকদের একাংশের দাবি, একাধিক ছাত্রের কাছ থেকে একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসার পর খবরটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার সকালে বেশ কয়েক জন অভিভাবক অভিযুক্তের বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে শিক্ষকের গ্রেপ্তারির দাবি জানান।

    বহরমপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে থানায় নিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, কয়েক বছর আগেও ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এক ছাত্র এবং তার মাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল। তবে সে সময়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পর বিষয়টি মিটে গিয়েছিল বলেও স্থানীয় সূত্রে খবর। সেই পুরোনো অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ কী তথ্য পেয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। স্থানীয় বাসিন্দা পাপু পালের দাবি, 'ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগেও নানা অভিযোগ শুনেছি। এ বার আমরা চাই, অভিযোগের সঠিক তদন্ত হোক এবং দোষ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।'

  • Link to this news (এই সময়)