এই সময়: দেশে জাল পরিচয়পত্র তৈরির বিপজ্জনক এক 'প্যাটার্ন' দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করল বম্বে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বৃহস্পতিবার এক আফগান ব্যক্তির পরিচয় সংক্রান্ত মামলার শুনানির সময় দুই সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ—বেশ কয়েক বছর ধরে বিদেশি নাগরিকেরা কোনও ভাবে ভারতে ঢুকে পড়ার পর নানাবিধ 'প্রভাব' খাটিয়ে ভুয়ো ডকুমেন্ট তৈরি করছেন। যার সাহায্যে একাধিক স্থানীয় পরিচিতিপত্রও কালক্রমে চলে আসছে তাঁদের কাছে। যাকে হাতিয়ার করে পরবর্তীকালে তাঁরা আধার কার্ড এবং পাসপোর্টের মতো নথিও পেয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসনের তরফে নজরদারিতে ফাঁক থাকায় বাস্তবে অস্তিত্বই না থাকা তাঁদের এবং তাঁদের পূর্বপুরুষের একটা ভুয়ো 'ভারতীয়' বংশপরিচয় তৈরি হয়ে যাচ্ছে এ ভাবে। যা হতে পারছে নজরদারিতে ফাঁক থেকে যাওয়ার কারণেই। যে প্যাটার্ন ভাঙতে প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সবপক্ষকে আরও তৎপর হতে হবে।
বেঞ্চ জানিয়েছে, আধার কার্ড থাকা মানেই কেউ ভারতীয় নাগরিক হয়ে যান না। ইউআইডিএআই-এর নিয়ম মেনেই, বাকি সব নথি ঠিকঠাক হলে, আগের ১২ মাসের মধ্যে ১৮২ দিন টানা ভারতে থাকলেই, যে কোনও বিদেশি নাগরিক আধার কার্ড পেতে পারেন। তাতে অসুবিধা নেই। কিন্তু ভুয়ো সব পরিচয়পত্র-শংসাপত্র জোগাড় করে তাঁরা আধার কার্ডের জন্য আবেদন করার পর তা ভেরিফিকেশন-এর ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় এবং অন্য এজেন্সিগুলির মধ্যে আন্তঃ এজেন্সি ভেরিফিকেশন এবং ইনফর্মেশন শেয়ারিং-এ সমন্বয়ের অভাব থেকে যাওয়ায়, এই প্যাটার্ন অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন অনেকেই। যা দেশের নিরাপত্তা এবং অভিবাসন ক্ষেত্রের জন্য বড়সড় বিপদ হয়ে দেখা দিতে পারে যে কোনও দিন। এ বিষয়ে সবাইকে আরও সতর্ক হতে হবে।
যে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই পর্যবেক্ষণ, সেখানে আফগান নাগরিক মজিদ খান শাহ হজরত শাহ ভারতে বৈধ ভিসা নিয়ে ঢুকলেও, তার মেয়াদ ফুরিেয় যাওয়ার পরেও তিনি আর নিজের দেশে ফিরে যায়নি। বরং নিজের পাসপোর্ট নষ্ট করে ফেলার পাশাপাশি 'মিরাজ তাহির খান' নাম নিয়ে স্কুল-লিভিং সার্টিফিকেট, প্যান কার্ড এবং আধার কার্ড বানিয়ে নেন। যার জোরে মিরাজ নামে ভারতীয় পাসপোর্টও বানিয়ে নেন তিনি। মুম্বইতে বসে বিদেশিদের জাল নথি বানিয়ে ভারতে থাকতে সাহায্য করার অভিযোগে ২০১৯ সালে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর দেখা যায়, তাঁর পাসপোর্ট একদমই আসল, নিয়ম মেনে তৈরি। কিন্তু যে সব নথি দেখিয়ে সে তা পেয়েছে, সেগুলি সবই ভুয়ো। যেগুলি দেখিয়ে কী ভাবে সে বৈধ আধার বা পাসপোর্ট পেল, আদতে সেটাই চিন্তার কারণ কোর্টের।
একই সঙ্গে হাইকোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে আধার আইনে কোনও বদল এনে এই 'আধার ভেরিফিকেশন' দ্রুত করা যায় কি না। পাশাপাশি বিদেশিদের যে কোনও স্তরের জাল নথি থাকার প্রমাণ পেলে, তা যাতে নজরদারির ভারপ্রাপ্ত সব সরকারি সংস্থার কাছে থাকে, সে বিষয়েও তৎপর থাকতে হবে প্রশাসনকে। যাতে সেই নথি দেখিয়ে পরবর্তীকালে অন্য কোনও পরিচয়পত্র না হাতাতে পারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।