এই সময়: বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ চলছেই, তার মধ্যেই প্রেমের সম্পর্কে ব্রেকআপের সূত্র ধরে সামনে এল ‘মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন’ (এমপিএসসি)–এর ড্রাগ ইনস্পেক্টর নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা! কী ভাবে?
মহারাষ্ট্রের মেয়ে হৃতুজা পাতিলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল গৌরব পাতিলের। হৃতুজা এবং গৌরব দু’জনেই এমপিএসসি–র ড্রাগ ইনস্পেক্টর নিয়োগের পরীক্ষায় বসেন। কয়েকদিন পরে গৌরব এমপিএসসি কর্তৃপক্ষকে একটি ই–মেল করে জানান, তাঁর প্রেমিকা হৃতুজা মোটা টাকার বিনিময়ে এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে গিয়েছিলেন, আর সেই সুবাদেই পরীক্ষায় ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছেন! ই–মেলে গৌরবের দাবি, হৃতুজার বাবার অম্রুত একটি প্রাইভেট কোচিং সেন্টারের মালিক। সরকারি এগজ়ামিনেশন সার্কেলের সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ পাতিল নামে এক মধ্যস্থতাকারীর থেকে ৪০ লাখ টাকায় এই পরীক্ষার প্রশ্ন কিনেছিলেন হৃতুজার বাবা।
কিন্তু গৌরব আচমকা প্রেমিকার তথ্য ফাঁস করে দিলেন কেন?
গৌরবের দাবি, ওই প্রশ্নপত্র হাতে পাওয়ার পরে মাত্র কয়েকটা প্রশ্ন তাঁর সঙ্গে শেয়ার করেছিলেন হৃতুজা। ফলে হৃতুজা পুরো প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে অনায়াসে পরীক্ষায় উতরে গেলেও গৌরব তা পারেননি। এই সূত্র ধরে ঝগড়া এবং ব্রেক আপ! গৌরবের দাবি, হৃতুজার উপরে প্রতিশোধ নিতেই পুরো বিষয়টা এমপিএসসি–র কাছে ফাঁস করে দিয়েছেন তিনি। প্রমাণ হিসেবে ওই প্রশ্নপত্রের ডিজিটাল এভিডেন্সও মেল করেছেন গৌরব।
গৌরবের মেলের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। দেখা যায়, প্রশ্ন সত্যিই ফাঁস হয়েছিল। এমপিএসসি–র সেই আধিকারিক–সহ ছ’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতের তালিকায় রয়েছেন গৌরবও! তাঁর বাবার উঁচুমহলে যোগাযোগের কারণে তিনি কী ভাবে লাভবান হয়েছেন, তা নিয়ে গর্ব করা হৃতুজার একটি অডিয়ো ক্লিপিংও হাতে পেয়েছে পুলিশ।
এ দিকে, প্রশ্নফাঁস প্রমাণিত হওয়ার পরে ড্রাগ ইনস্পেক্টর এবং ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট’–এর গ্রুপ–বি পদের পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করেছে মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন। পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে তারা।