অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়, নয়াদিল্লি
অনুপ্রবেশ রুখতে এ বার ঢেলে সাজা হচ্ছে দেশের সব আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাকে৷ সরকারি সূত্রের খবর, নতুন বর্ডার ম্যানেজমেন্ট নীতিতে দেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী এলাকায় ছোট ‘কম্যান্ড সেন্টার’ স্থাপন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক৷ এই সেন্টারগুলির মাধ্যমে চালানো হবে দিন রাতের ডিজিটাল নজরদারি, যেখানে স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকার লাইভ ফিড পৌঁছে যাবে দিল্লি–সহ বিভিন্ন রাজ্যের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কন্ট্রোল রুমে৷ অরুণাচল প্রদেশ, কাশ্মীর এবং লাদাখ সীমান্তে শুরু হবে কম্যান্ড সেন্টার স্থাপনের পাইলট প্রকল্প৷ একবার এই প্রকল্প সাফল্য পেলে তার সম্প্রসারণ ঘটানো হবে অন্যান্য রাজ্যের আন্তর্জাতিক সীমান্তবর্তী এলাকাতেও৷
হঠাত্ কেন এমন ভাবনা? উচ্চপদস্থ এক কেন্দ্রীয় আমলার দাবি, ‘দেশে এমন কিছু সীমান্তবর্তী এলাকা আছে যেখানে বাস্তবিকভাবে কোনও কাঁটাতারের বেড়া বসানো সম্ভব নয়৷ ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই এই জটিলতা৷ এর মধ্যে পাকিস্তান-বাংলাদেশ ও চিন— তিনটি দেশের সীমান্ত সংলগ্ন বেশ কিছু এলাকা রয়েছে৷ শুধু চিন সীমান্তেই ৩,৪৮৮ কিলোমিটার এমন এলাকা আছে যেখানে সুস্পষ্ট ভাবে কোনও সীমান্ত এখনও নির্ধারণ করা যায়নি৷
এর মধ্যে লাদাখ এবং অরুণাচলের বেশ কিছু এলাকা আছে৷ এই সব এলাকায় আগে কম্যান্ড সেন্টার তৈরির কথা ভাবা হয়েছে৷’ ভারতের সমস্ত স্থলসীমান্তের জন্য প্রস্তাবিত ‘স্মার্ট বর্ডার’ কাঠামোটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সেন্সর, নজরদারি ব্যবস্থা এবং সমন্বিত কম্যান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল সেন্টারের সমন্বয় ঘটানো হবে। এর ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ সম্ভব হবে, দাবি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের৷
সাতটি দেশের সঙ্গে ভারতের ১৫,১০৬.৭ কিলোমিটার স্থল সীমান্ত রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর আগে সীমান্ত সুরক্ষার এক চতুর্মুখী কৌশলের কথা ঘোষণা করেছিলেন। এর মধ্যে ছিল সীমান্তরক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, রাজ্য পুলিশ এবং প্রযুক্তিগত সমাধান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রের দাবি, এই লক্ষ্যেই প্রস্তাবিত কম্যান্ড সেন্টার এমন ভাবে সাজানো হবে যেখানে ক্যামেরা, সেন্সর, ইমেজ-প্রসেসিং টুল, ড্রোন এবং অন্যান্য নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য একত্রিত করে ভারতের সীমান্তে মোতায়েন সংস্থাগুলোর জন্য কমন অপারেশনাল পিকচার গড়ে তোলা যায়। এতে সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অনুপ্রবেশের প্রচেষ্টা, চোরাচালান নেটওয়ার্ক আটকানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।