এই সময়, সোনারপুর ও বারুইপুর: অ্যাডভেঞ্চারের নেশায় ছুটির ফাঁকে একাই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যেতেন সোনারপুরের বৈকুণ্ঠপুরের বাসিন্দা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার লোপামুদ্রা কুন্ডু। তাঁর স্বামী শুভ্রজিৎ সিনহা রায় ব্যাঙ্ককর্মী। পরিবার সূত্রে খবর, প্রতি বছরই কোনও না কোনও জায়গায় একা বেড়াতে যেতেন তিনি। এ বছর কৈলাস মানসরোবর দর্শনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা নিয়ে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন গত ২১ অগস্ট। যদিও এই যাত্রায় তাঁর মা, স্বামী বা দুই ছেলেমেয়ের কেউ যাননি।
কলকাতার একটি সংস্থার ৩২ জনের একটি দলের সদস্য হয়ে নেপালের উদ্দেশে রওনা দেন লোপামুদ্রা। ২৬ তারিখ সকালেও পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা হয় তাঁর। তখন লোপামুদ্রা জানিয়েছিলেন, তাঁরা চিনের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় রয়েছেন। সেখানে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের সমস্যা হতে পারে বলেও আগাম জানিয়েছিলেন তিনি।
এর পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়ায় পরিবারের উদ্বেগ বাড়ে। সে দিনই ফের ফোনে কথা হয় লোপামুদ্রার সঙ্গে। পরিবারের সদস্যদের চিন্তা না করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার পর থেকেই আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। লোপামুদ্রার স্বামী শুভ্রজিৎ বলেন, '২৭ তারিখ ওদের কৈলাস দর্শনের কথা ছিল। তার আগেই ২৬ তারিখ এত বড় বিপর্যয় হলো। জানি না ও কোথায় আছে, কেমন আছে।'
নেপালের বিপর্যয়ে নিখোঁজ বারুইপুর পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চৌধুরিবাগানের বাসিন্দা নিখিল রঞ্জন বিশ্বাস ও তাঁর স্ত্রী শিখা বিশ্বাস। গত ২১ তারিখ কৈলাস-মানসরোবর যাত্রায় নেপালে যান দম্পতি। সোমবার শেষবার ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা হয় তাঁদের। মঙ্গলবার নেপালের ভোটেকোশী নদীতে ভয়াবহ হড়পা বানে তাসের ঘরের মতো ভেসে যায় বহু বাড়ি, হোটেল ও গাড়ি।
সেই বিপর্যয়ের পর থেকেই মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে দুই ভাই মৈনাককান্তি ও মুকুলের। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে পরিবার। বিশ্বাস দম্পতির প্রতিবেশী রিতা মণ্ডল বলেন, 'শুক্রবার বিকেলে স্বামী-স্ত্রী দু'জনে বেড়াতে বেরিয়েছিলেন। ওঁরা প্রতি বছরই তীর্থে যান। আমরা সবাই খুব দুশ্চিন্তায় আছি।'