শেষবার কথা হয়েছিল মঙ্গলবার রাতে। তার পর থেকে দু’দিন কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও খোঁজ মিলল না মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়ের। স্বামী শুভ্রাংশু রায় বার বার ফোন করছেন তাঁর নম্বরে। কিন্তু ফোন বন্ধ। অন্য কোনও ভাবেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না তাঁর সঙ্গে।
এই সময় অনলাইনকে শুভ্রাংশু বলেন, ‘না, এখনও খোঁজ পাইনি। ফোন, মেসেজ কিছুই নেই। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কিন্তু তাদের তরফেও এখনও কিছু জানানো হয়নি। কোনও আপডেট নেই।’
কলকাতার একটি পর্যটন সংস্থা ৩২ জনের একটি দলকে নিয়ে গত ২১ অগস্ট নেপালের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। ওই পর্যটকদলের গন্তব্য ছিল মানসরোবর। শুভ্রাংশু জানান, শর্মিষ্ঠা ওই দলেই ছিলেন। একাই গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিপর্যয়ের খবর পাওয়ার থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। বৃহস্পতিবারই শুভ্রাংশু বলেছিলেন, ‘নিখোঁজ তালিকায় আমার স্ত্রীর নাম রয়েছে। ছেলেমেয়ে যায়নি। আমার সঙ্গেই রয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখ।’
শুভ্রাংশুর ঘনিষ্ঠ বিশ্বজিৎ মিত্রও বলেছিলেন, ‘৭ সেপ্টেম্বর বৌদির ফেরার কথা ছিল। পরশু অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতে শেষবার কথা হয়েছিল দাদার সঙ্গে। তখন নেপালের কোনও প্রত্যন্ত গ্রামে ছিল। কিন্তু বুধবার থেকে আর ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না বৌদিকে।’
নেপালে নিখোঁজ হওয়া অধিকাংশ পর্যটকেরই গন্তব্য ছিল কৈলাস-মানসরোবর। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত রাজ্যের ৩২ জন নিখোঁজ হয়েছে বলে খবর মিলেছে। সরকার তাঁদের ব্যাপারে খোঁজখবর করছে। নবান্নে বুধবার রাত থেকে কন্ট্রোল রুমও খোলা হয়েছে। সেখান থেকেই নিয়মিত যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। নেপাল সরকারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে সাত-আট জনের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। রাজ্য সরকার এই পর্যটকদের ফিরিয়ে আনার জন্য সব রকম ভাবে সহযোগিতা করবে।’