দেশের বাইরের শত্রুদের সেনা বুঝে নেবে। কিন্তু ভিতরে বসে যাঁরা ভারত ভাগের চক্রান্ত করছেন? রাখি বন্ধনের উৎসব থেকে তাঁদের একহাত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার ভবানীপুরের অনুষ্ঠান থেকে বলে দিলেন, ‘বাড়ির আবর্জনা পরিষ্কারের মতো এদের সাফ করে দিন।’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের একাংশের ‘আজাদি’ স্লোগান দেওয়া নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি।
এদিনের অনুষ্ঠানে রাখি বন্ধন উৎসবকে জাতীয়তাবাদের সঙ্গে মিলিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই উৎসবে ধর্মীয় মাহাত্ম্য, ভাই-বোনের বন্ধনের সঙ্গে মিশে গিয়েছে দেশপ্রেম।’ পশ্চিমবঙ্গকে আধ্যাত্মিকতার রাজধানী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, ‘এই রাজ্য প্রভু শ্রীচৈতন্যদেব, শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস, রানি রাসমণির লীলাক্ষেত্র। কালীঘাট থেকে দক্ষিণেশ্বর— সব রয়েছে।’ রাজ্য সরকার বাংলার সেই হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে বলে জানান তিনি।
নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মাতঙ্গিনী হাজরা, ক্ষুদিরাম বসুদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশের ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে আক্রমণ শানান শুভেন্দু। কটাক্ষের সুরে বলেন, ‘কীসের আজাদি ভাই? কলকাতার রাস্তায় আজাদি স্লোগান উঠলে কষ্ট হয়।’ কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে বিবাদের প্রসঙ্গ টেনে আনেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, ‘আপনারা সেই কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি বলবেন?’
এবিভিপি ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষের পর থেকেই উত্তপ্ত যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। এর আগে ক্যাম্পাসের দেওয়ালে আপত্তিকর ছবি, গ্রাফিতির ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন শুভেন্দু। এ দিন আরও একবার সেই প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। কড়া ভাষায় বলে দেন, ‘দেওয়ালে কিষেণজিকে রেড স্যালুট দিয়েছেন। তিনি কে? ভোট বয়কটের ডাক দিয়েছিলেন, ভারত ভাগের চক্রান্ত করেছিলেন।’
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশের উদ্দেশে শুভেন্দুর প্রশ্ন, ‘আপনারা কী শেখাচ্ছেন আগামী প্রজন্মকে? পূর্ণাঙ্গ বন্দে মাতরমে আপত্তি কেন?’ পহেলগামের প্রসঙ্গ টেনে বাইরের শত্রুদের ‘অন্দর ঘুষকে মারা’ হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সুরে বলে দেন শুভেন্দুও। এর পরেই ভারতের ভিতরের শত্রুদের সাফাইয়ের ডাক দেন তিনি। কড়া ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বাড়ির আবর্জনা পরিষ্কারের মতো এদের সাফ করে দিন।’
১. শুভেন্দু অধিকারী কোথায় এই মন্তব্য করেন?
ভবানীপুরে আয়োজিত রাখিবন্ধন উৎসবের অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
২. ‘ভিতরের শত্রু’ বলতে কাদের নিশানা করেন শুভেন্দু?
দেশের ভিতরে বসে ভারত ভাগের চক্রান্ত করছেন বলে যাঁদের অভিযোগ করেন, তাঁদেরই নিশানা করেন তিনি।
৩. যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে কী বলেন শুভেন্দু?
পড়ুয়াদের একাংশের ‘আজাদি’ স্লোগান এবং ক্যাম্পাসের দেওয়ালে থাকা কিছু ছবি ও গ্রাফিতি নিয়ে কটাক্ষ করেন তিনি।
৪. ‘বাড়ির আবর্জনা পরিষ্কারের মতো’ কী মন্তব্য করেন শুভেন্দু?
দেশের ‘ভিতরের শত্রুদের’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাড়ির আবর্জনা পরিষ্কারের মতো এদের সাফ করে দিন।’
৫. রাখিবন্ধন নিয়ে শুভেন্দুর বক্তব্য কী ছিল?
তিনি রাখিবন্ধন উৎসবকে ভাই-বোনের বন্ধনের পাশাপাশি দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের সঙ্গেও যুক্ত বলে উল্লেখ করেন।