• রক্তের কারবারে পোয়াবারো দালালদের! কালোবাজারি চলছেই
    এই সময় | ২৮ আগস্ট ২০২৬
  • এই সময়: প্রশ্ন করলেই জবাব আসে, রক্ত নেই। যে গ্রুপের রক্তের প্রয়োজন অধিকাংশ সময়ে ব্লাড ব্যাঙ্কে সেই গ্রুপের রক্ত অমিল থাকে। কিন্তু, হাজার কিংবা তার বেশি টাকা দালালদের হাতে দিলেই নির্দিষ্ট গ্রুপের রক্তের পাউচ (এক ইউনিট) পাওয়া যায়। কৃত্রিম 'চাহিদা' তৈরি করে রাজ্যজুড়ে এ ভাবেই রক্তের কালোবাজারি চলছে। ঘটনাচক্রে, সে সব রক্তের যোগান আসছে ডোনারদের স্বেচ্ছায় দান করা রক্তের কার্ড থেকে।

    পাঁশকুড়া মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাঙ্কে তিন ল্যাব টেকনিশিয়ানের গ্রেপ্তারের পরে রক্তপাচার চক্রের তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা (এসিবি) সূত্রে খবর, সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে কর্মরত আরও কয়েক জন ল্যাব টেকনিশিয়ানের ভূমিকা সন্দেহের তালিকায় রয়েছে। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, এই চক্র শুধু একটি হাসপাতাল নয়, বরং রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল জুড়েই সক্রিয় থাকতে পারে। রক্তপাচারের চক্রের 'এপিসেন্টার' বিভিন্ন ক্লাব, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা থেকে শুরু করে সামাজিক সংগঠনের আয়োজিত রক্তদান শিবির।

    অভিযোগ, রক্তদান শেষে ডোনারদের কার্ড, যোগাযোগের তথ্য বিভিন্ন উপায়ে দালালদের হাতে পৌঁছে যায়। সেই তথ্যকে হাতিয়ার করে দালালরা সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে কর্মরত অসাধু ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ানদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলে। এরপর প্রয়োজনের সময়ে ওই রক্ত সংগ্রহ করে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে গায়েব হয়ে যাওয়া সেই রক্ত পরে রোগীর পরিবারের কাছে 'ইমার্জেন্সি ব্লাড'-এর নামে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হয়।

    এক ইউনিট রক্ত (৩৫০ থেকে ৪৫০ মিলিলিটার) ১ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হয়। বেসরকারি হাসপাতালে তার চাহিদা অনেক বেশি। এসিবি-র তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, এই চক্রে শুধু দালাল নন, হাসপাতালের ভেতরের কিছু অসাধু কর্মী, রক্ত সংগ্রহকারী নেটওয়ার্কের মধ্যে যোগাযোগ রয়েছে। পাঁশকুড়া মেডিক্যাল কলেজে তিন ল্যাব টেকনিশিয়ানের গ্রেপ্তারের পরে এখন রাজ্যের একাধিক সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কের নথি, রক্তের মজুত, ডোনার রেকর্ড এবং লেনদেনের খতিয়ান খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

  • Link to this news (এই সময়)