Baranagar Barrackpore Metro: ব্যারাকপুর-বরানগর মেট্রো প্রকল্পে সবুজ সংকেত দিয়েছে KMC। প্রস্তাবিত পিঙ্ক লাইনে সোদপুর, পানিহাটি, সুভাষনগর-সহ মোট ১১টি স্টেশন থাকার কথা। এর মধ্যে কোন স্টেশন কোথায় হবে? প্ল্যান অনুযায়ী, সোদপুর স্টেশন হবে বেঙ্গল কেমিক্যালের কাছে, পানিহাটি স্টেশন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে পুরসভার সামনের এলাকায়। আর সুভাষনগর স্টেশনটি হতে পারে গোডরেজ প্রকৃতি এবং ম্যাক্সিমাসের মাঝামাঝি এলাকায়। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পরে এই মেট্রো প্রকল্পের জট কেটেছে। শহরতলির নিত্যযাত্রীদের যে এর ফলে বেশ উপকার হবে, তা বলাই বাহুল্য।
প্রস্তাবিত ব্যারাকপুর-বানারগর মেট্রো চালু হলে ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোডে(BT Road) চাপ কমবে। বর্তমানে এদিক থেকে যাঁরাই কলকাতায় আসেন, তাঁদের ভরসা বাস, অটো এবং লোকাল ট্রেন। মেট্রো চালু হলে বেশ দ্রুত ও আরামদায়ক যাতায়াতের রুট তৈরি হয়ে যাবে।
প্রস্তাবিত পিঙ্ক লাইনে মোট ১১টি এলিভেটেড স্টেশন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে স্টেশনগুলি হল;
বরানগর
কামারহাটি (কৃষ্ণকালী)
আগরপাড়া (আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র)
পানিহাটি (শরৎচন্দ্র)
সোদপুর (গান্ধী আশ্রম)
সুভাষনগর (সুখচর)
খড়দহ (ঋষি বঙ্কিম)
টাটা গেট (ড. রাজেন্দ্রপ্রসাদ)
টিটাগড় (শাহনওয়াজ খান)
তালপুকুর (অনুকূল ঠাকুর)
ব্যারাকপুর (মঙ্গল পাণ্ডে টার্মিনাল)
এর মধ্যে সোদপুর, পানিহাটি এবং সুভাষনগর স্টেশন নিয়ে মানুষের আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সোদপুরের স্টেশন বেঙ্গল কেমিক্যালের কাছে, পানিহাটির স্টেশন পুরসভার সামনের এলাকায় এবং সুভাষনগরের স্টেশন গোদরেজ প্রকৃতি ও ম্যাক্সিমাসের মাঝামাঝি এলাকায় হওয়ার কথা।
বরানগর থেকেই মেট্রো বদলানো যাবে
পিঙ্ক লাইন বরানগরে এসে কলকাতা মেট্রোর ব্লু লাইনের সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে ব্যারাকপুর, টিটাগড়, খড়দহ, সোদপুর কিংবা পানিহাটি থেকে আসা যাত্রীরা বরানগরে নেমে দক্ষিণ কলকাতা ও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে যাওয়ার মেট্রো ধরতে পারবেন।
এর ফলে শহরতলির যাত্রীদের কলকাতার দিকে যাতায়াত আরও সহজ হতে পারে। বর্তমানে ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোডে যানজট নিত্যদিনের সমস্যা। অফিসের সময় এবং স্কুল-কলেজের ব্যস্ত সময়ে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতে অনেকটা সময় চলে যায়। নতুন মেট্রো চালু হলে সেই চাপ কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
এত দিন আটকে ছিল কেন?
ব্যারাকপুর-বানারগর মেট্রো প্রকল্প নতুন নয়। প্রায় ১৫ বছর ধরে নানা জটিলতায় আটকে ছিল। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোডের নিচে থাকা পানীয় জলের পাইপলাইন।
এই রাস্তার নীচ দিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জল সাপ্লাইয়ের পাইপলাইন রয়েছে। সেগুলির মধ্যে কয়েকটির ব্যাস ৪২ থেকে ৭২ ইঞ্চি পর্যন্ত। মেট্রোর পিলার এবং পরিকাঠামো তৈরির ক্ষেত্রে ওই পাইপলাইনগুলির অবস্থান বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
পাইপলাইন সরিয়ে মেট্রোর রাস্তা তৈরি হবে
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভা এই প্রকল্পে ছাড়পত্র দিয়েছে। পুরসভার কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে ব্যারাকপুর ট্রাঙ্ক রোডের নিচে থাকা ৪৮ ইঞ্চির জল সরবরাহের একটি পাইপলাইন বন্ধ করার জন্য নো অবজেকশন সার্টিফিকেট বা NOC দিয়েছেন।
একই সঙ্গে পলতা ইন্দিরা গান্ধী জল পরিশোধন কেন্দ্র থেকে টালা পাম্পিং স্টেশন পর্যন্ত নতুন ৭২ ইঞ্চির পাইপলাইন তৈরির অনুমতিও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পুরনো জল সরবরাহ ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত রেখেই মেট্রোর নির্মাণকাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
১০টি স্টেশনের টেন্ডার
প্রকল্পে গতি আনতে ইতিমধ্যেই এলিভেটেড ভায়াডাক্ট এবং ১০টি স্টেশন তৈরির জন্য প্রায় ১,৫৮৭ কোটি টাকার টেন্ডার ডাকা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। পুরো করিডরটি এলিভেটেড হওয়ায় রাস্তার উপর মেট্রো পরিষেবা চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে Rail Vikas Nigam Limited বা RVNL। সরকারি স্তরে বিভিন্ন বৈঠকের পর জলের পাইপলাইন নিয়ে দীর্ঘদিনের জট কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
দীর্ঘ ১৫ বছরের অপেক্ষার পর ব্যারাকপুর-বানারগর মেট্রো প্রকল্প অবশেষে বাস্তবায়িত হতে চলেছে। এখন নির্মাণকাজ কবে পুরোদমে শুরু হয় এবং প্রস্তাবিত স্টেশনগুলির কাজ কত দ্রুত শেষ হয়, সে দিকেই নজর সকলের।