• পুজোর প্রসাদ তৈরিতেও চাই লাইসেন্স, চলবে না ভেজাল, উৎসবের আগে বড় ঘোষণা
    প্রতিদিন | ২৮ আগস্ট ২০২৬
  • মহারাষ্ট্রের ‘স্বাস্থ্য’ ফেরাতে রীতিমতো আদাজল খেয়ে নেমেছেন তুকারাম মুন্ডে। কখনও ‘ভেজাল’ পনিরের উপর নিষেধাজ্ঞা বসাচ্ছেন, কখনও কেড়ে নিয়েছেন ডমিনোজ-পিজ্জা হাটের মতো বিখ্যাত খাবারের দোকানের লাইসেন্স। এবার তুকারাম নির্দেশ দিলেন, মহাপ্রসাদ বিতরণের যে বড় ভাণ্ডারগুলি রয়েছে তাদেরও লাইসেন্স নিতে হবে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফডিএ) থেকে। সেই নির্দেশিকা মেনেই মুখ খুলেছেন মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসও।

    কয়েকদিন পরেই গণেশ চতুর্থী। মহারাষ্ট্রজুড়ে বিরাট সংখ্যক মানুষ এই সময়ে প্রসাদ গ্রহণ করেন। সেকথা মাথায় রেখেই সম্প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়, যেসমস্ত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং ভাণ্ডার প্রসাদ বিলি করে তাদের এফডিএ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। সেই একই কথা শোনা গেল ফড়নবিসের মুখেও। উৎসবের আগে তাঁর ঘোষণা, একমাত্র বিশুদ্ধ এবং ভেজালহীন প্রসাদই বিলি করতে হবে। এফডিএর নির্দেশিকা মেনে প্রসাদ বানাতে হবে। তার জন্য প্রয়োজনে প্রসাদ তৈরির জন্য প্রশিক্ষণও নিতে হবে বলে নির্দেশ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর।

    গণেশ পুজো বর্তমানে মহারাষ্ট্রের জাতীয় উৎসব হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু কয়েকদিন আগে গণেশ চতুর্থীর শোভাযাত্রায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। মুম্বইয়ের মণ্ডপে যাওয়ার সময় বিশালাকার মূর্তি বহনের কাঠামো আচমকা উলটে পড়ে গাড়ি থেকে। তার নীচে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় দু’জনের। আহত হয়েছেন কমপক্ষে আরও ৫ জন, তাঁদের মধ্যে রয়েছে ২ শিশুও। এহেন দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য সতর্ক থাকতেও নির্দেশ দিয়েছেন ফড়নবিস। পুজোর আয়োজক এবং প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখতে বলেছেন। সমস্যা দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করতেও নির্দেশ দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী।

    পুজোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হল প্রসাদ। সেই প্রসাদ নিয়ে যেন কোনও সমস্যা দেখা না যায় সেটা নিশ্চিত করতে চাইছে মহারাষ্ট্র সরকার। সেকারণেই ‘সিংহম’ তুকারামের প্রস্তাবে সায় দিয়েছে তারা। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে শাহরুখ খানকে নোটিস পাঠিয়েছেন তুকারাম। জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস না করার সিদ্ধান্তে অনড় থেকে তিনি একের পর রেস্তরাঁয় তালা ঝুলিয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছে মুম্বইয়ের একাধিক ঐতিহ্যবাহী জায়গাও।
  • Link to this news (প্রতিদিন)