• পুজোর আগে সাজবে কলকাতা, রাস্তা রং নিয়ে দোটানায় ইঞ্জিনিয়ারাই!
    প্রতিদিন | ২৮ আগস্ট ২০২৬
  • কলকাতার প্রধান রাস্তাগুলি দ্রুত সংস্কারের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যে কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে। তবে ঠিকাদারদের একটা বড় অংশ কার্যত ধর্মঘট করে থাকায় শহরের সমস্ত ওয়ার্ডের ভিতরের রাস্তাগুলি মেরামত ও পিচ করার কাজ শুরু করতে পারছেন না বরোগুলি। কারণ, প্রায় তিন বছরের বেশি সময় পাওনা টাকা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে গত দু-মাস ধরে কোনও টেন্ডারে অংশ নিচ্ছেন না অধিকাংশ ঠিকাদার। যদিও বিজেপি বিধায়করা ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে বেশ কিছু বরোতে সরকারের সমর্থক ঠিকাদারদের দিয়ে অল্প সংখ্যক টেন্ডারে কাজের অগ্রগতি শুরু করিয়েছেন বলে পুরসভা সূত্রে খবর।

    কিন্তু অধিকাংশ বরো অফিসের সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা রাস্তা মেরামতের ফাইল তৈরি করে পাঠিয়েও ঠিকাদারদের অসহযোগিতার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া পূর্ণ করতে পারছেন না। শুধু তাই নয়, যেহেতু টেন্ডার করা যাচ্ছে না তাই অর্থ বরাদ্দর জন্য পুরভবনে ফিনান্স বিভাগে অনলাইনে বরাদ্দ চাইতে পারছেন না। বস্তুত, এমনই পরিস্থিতিতে প্রধান সড়কগুলি মেরামতের কাজ শুরু হলেও কলকাতার অধিকাংশ ওয়ার্ডের ভিতরের রাস্তা পিচ ও সংস্কার কার্যত বিশবাঁও জলে। একাধিক বরোর সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা বৃহস্পতিবার নাগরিক পরিষেবা থমকে যাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, রাস্তা বেহালের জন্য আমজনতার ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে। যা দাঁড়াচ্ছে, তাতে করে আগামীদিনে আমাদের প্রাণ বাঁচাতে ছুটি নিয়ে বাড়ি বসে থাকতে হবে।

    রাস্তা মেরামতের পাশাপাশি পুজোর আগে কলকাতার পিচ রাস্তার দু-পাশে এবং মাঝের ডিভাইডার রং করার বিষয় নিয়ে প্রবল সমস্যায় পড়েছেন সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা। কারণ, গত ১৫ বছর ধরে রাস্তার দু-পাশে এবং ডিভাইডারে স্রেফ নীল-সাদা রং করে দেওয়া হত। পুজোর অন্তত দু-মাস আগে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হত। বিশেষ করে সমস্ত বড় দুর্গাপুজোর চারপাশ রঙের সঙ্গে রাস্তাও মেরামত-পিচ করে ঝকঝকে করে দিতেন পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা। কিন্তু এবার ঠিকাদারদের অসহযোগিতা ও আর্থিক বরাদ্দ না হওয়ায় সময়ে রাস্তা মেরামত যেমন হচ্ছে না, তেমনই কী রং করা হবে তা নিয়ে জোর সংশয়ে ভুগছেন ইঞ্জিনিয়াররা। কারণ, রাস্তার সর্বভারতীয় নিয়ম মেনে হলুদ-কালো বর্ডার করা হলেও ডিভাইডারে কী রং করা হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত করা যাচ্ছে না। নীল-সাদার পরিবর্তে গেরুয়ার সঙ্গে ঘন কী রং দেওয়া হবে, তা নিয়ে বরোর সিনিয়র ইঞ্জিনিয়াররাও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। টানাপোড়েনে হাত তুলে দিয়েছেন পুরভবনের শীর্ষকর্তারাও। বাধ্য হয়ে রাস্তার মাঝে ও পার্কগুলির গ্রিলে কী রং হবে, তা জানতে ফাইল গিয়েছে পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছে। আপাতত পুরমন্ত্রীর দপ্তরে ফাইল রয়েছে। তিলোত্তমা কী রঙে সাজবে তা চূড়ান্ত করবেন সৌন্দর্য সচেতন পুরমন্ত্রী।
  • Link to this news (প্রতিদিন)