‘বিজেপি হাইভোল্টেজ ভাইরাস’, ছাত্র পরিষদের মঞ্চ থেকে বেলাগাম আক্রমণ মমতার! রোষানলে পুলিশও
প্রতিদিন | ২৮ আগস্ট ২০২৬
একুশে জুলাইয়ের পর তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসে ফের দুই শিবিরের অনুষ্ঠান দেখল কলকাতা। ছাত্র-যুবদের প্রতিষ্ঠা দিবসে বিজেপিকে বিঁধে বক্তৃতার আগাগোড়া খোঁচা দিতে শোনা যায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ধরে ধরে বিজেপিকে তুলোধোনা করেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমরা বিজেপিকে মানি না, জানি না, চিনি না, শুনি না।” যাদবপুর কাণ্ডে পুলিশকেও একহাত নেন মমতা। তিনি বলেন, “আমার সময়ে পুলিশ মানবিক ছিল। আমি এই পুলিশকে চিনি না। মনে রাখবেন ছাতা কিন্তু সবসময় মাথার উপর থাকবে না। আমাকে নাকি বেরতে দেবে, কত বড় বুকের পাটা।”
তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চে ব্রাত্য থেকে ছাত্র-যুবরাই! যে মঞ্চে আগাগোড়া রাজনৈতক হুঙ্কার-হুঁশিয়ারিই শোনা গেল। বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়ে মমতা বলেন, “বিজেপি হাইলোডেড, হাইভোল্টেজ ভাইরাস। যেখানে যাবে, সর্বনাশ করবে।” বিজেপিকে ‘অত্যাচারী’ বলে ছাত্র যুবদের বুক চিতিয়ে লড়াইয়ের বার্তা দেন মমতা। তাঁর কথায়, “রাজনীতি করে ছাত্রদের দমানো যায় না। ছাত্র আন্দোলন হলে বুক পেতে দাঁড়াবেন, বিজোপি হয়ে যাবেন না।” পাশাপাশি পুলিশকে কাঠগড়ায় তুলে মমতার বক্তব্য, “আপনাদের পরিবারের উপর অত্যাচার হলে সহ্য করতে পারবেন তো? বেঙ্গল পুলিশকে বিশ্বাস করে না সরকার। না হলে এত কেন্দ্রীয় পুলিশ প্রয়োজন পড়ছে কেন? আমরা কেন্দ্রীয় পুলিশ ছাড়াই ১৫ বছর সরকার চালিয়েছি।”
বৃহস্পতিবার ক্যামাক স্ট্রিটে বিলবোর্ড খোলা নিয়েও এদিন আগাগোড়া পুলিশকে আক্রমণ শানান তিনি। মমতার হুঁশিয়ারি, “আমার বাড়ির সামনে বিজেপির পোস্টার ছেয়ে গেছে, খুলতে পারবেন? বিজেপি দেখলেই পুলিশের ক্ষমতা ৫০ ইঞ্চি। গ্রেপ্তার করতে এলে ঝাঁপিয়ে পড়ার বার্তা দেন মমতা। শুধু তাই নয়, নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকেও তীব্র আক্রমণ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। তিনি বলেন, “হানিমুন থেকে মানিমুন, ৪ মাসে সব করেছেন। রামজন্মভূমি থেকে পানিহাটি, কাশী বিশ্বনাথ লুট করেছেন। গদ্দার একবার হলে, চিরকাল হয়। গেরুয়া পরার যোগ্যতা আপনার নেই, গেরুয়া পরে ত্যাগীরা। আমাদের বিরুদ্ধে ১৪ হাজার কেস করেছে। দরকার হলে সুপ্রিম কোর্ট, ইন্টারন্যাশনাল কোর্টে যাব।” অন্যদিকে রানি রাসমণি রোডে ঋতব্রত শিবিরের তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানমঞ্চে দাঁড়িয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের পক্ষে সওয়াল করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি বলেন, “মমতা সরকার ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাত্র আন্দোলনের প্রোডাক্ট। ছাত্র সংসদ নির্বাচন অবিলম্বে করতে হবে।” সরাসরি বিজেপি সরকারের বিরোধিতা করে ঋতব্রত আরও বলেন, “তৃণমূলের ভুলের উপর দাঁড়িয়ে সরকার চালাবেন না। এই সরকার যা বলেছিল সেই অনুযায়ী কাজ করছে না। মমতায়ন, অনিলায়ন করবেন না।” কলেজ পরিচালন সমিতিতে কেন বিজেপি প্রতিনিধিরা, এদিন সে প্রশ্নও তোলেন ঋতব্রত।